এইচ এম নাসির উদ্দিন আকাশ, ঝালকাঠি : অভাবী সংসারে ঠিকমতো দু’বেলা ভাত জোটেনি। জোটেনি ভালো পোষাকও জমিজমা না থাকায় আমুয়া বন্দরের কাঠের ঘরে ভাড়া বাসায় বসবাস। পিতা হতদরিদ্র ভ্যান চালক মোঃ শহীদ আকন। এমন একটি অভাবী সংসারের মেয়ে লিজা আক্তার (১৫)। কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দর আমির মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। দারিদ্রকে হার মানিয়ে কোন বিষয়ে প্রাইভেট না পড়ে,অন্যের বই ধার করে পড়াশুনা করে এ ফলাফল করেছে লিজা। ৭জনের অভাবী সংসারে একমাত্র উপযক্ষম ব্যাক্তি ভ্যান চালক শহীদ আকন। বর্তমান বাজারে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর,সবার মুখে দু’বেলা খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হয় শহীদ আকনের। এমন একটি অভাবী সংসারে লিজার এ ফলাফল। পড়াশুনার ফাকে ফাকে সংসারে কাজে মাকে সাহায্য করতো লিজা। ভাই বোনদের মধ্যে লিজা তৃতীয় বড় ভাই আরাফাত টিউশনি করে বিএ ও পরের ভাই আলানুর একই ভাবে চট্রগ্রাম আগ্রবাদ কলেজে দ্ধাদশ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। ছোট বোন লিমা আক্তার এ বছর আমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে পড়াশুনা করছে, সবার ছোট বোন মিম বয়স ৫ বছর। ধার দেনা করে এসএসসির ফরম ফিলাপ করেছিল লিজা। ২০০৮ সনে ৫ম শ্রেনীর প্রাথমিক সমপনী পরীক্ষায় ও ২০১১ সনে জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল লিজা। তার এ সাফল্যে পরিবারটির মাঝে বাঁধবাঙা আনন্দ নেমে এলেও লিজার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় অভাবী বাবা-মা। লিজা ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চায় অর্থের অভাবে কাঙ্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন কিনা? এ নিয়ে শস্কিত লিজা। তার এ ফলাফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও এলাকাবাসী মহাখুশি।




