হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পৌর মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দূর্নীতি,উৎকোচ গ্রহন,স্বেচ্চাচারিতা,কাউন্সিলদের স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটিসহ মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কাউন্সিলরা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
অভিযোগপত্র ও অন্যান্য সূত্রে জানাযায়, হোসেনপুর পৌর মেয়র বিভিন্ন ই্ট ভাটার নামে ভ’য়া বিল ভাউচার দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা আতœসাত করেন। তাছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের স্পেশাল বরাদ্ধের ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা কাউন্সিলরদের না জানিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করে অর্থ আতœসাত,বিল্ডিং অনুমোদনের নামে ব্যাংক রশিদ বিহীন উত্তোলিত টাকা সরকারী খাতে জমা না দেয়া,উন্মুক্ত বাজেট না করে গোপনে বাজেট তৈরি করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, নেপথ্যে থেকে তুলিফ এন্টার প্রাইজের নামে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আতœসাত,উন্নয়ন মুলক কাজের ঠিকাদাদের থেকে ৭ শতাংশ পিসি নিয়ে কয়েক লাখ টাকা আতœসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পৌর কাউন্সিলরা প্রতিবাদ করলে মেয়র তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ মে পৌরসভার ১২জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১০জন অনাস্থা জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেন।এ নিয়ে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের মধ্যে দ্বন্ধ চরমে উঠায় দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পৌরবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলছে।
সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষরদাতা প্যানেল মেয়র মোঃ কাজল মিয়া,কাউন্সিলর মোঃ মাসুম বাবুল,ফজলুর রহমান বাদল,খায়রুল ইসলাম,ফরিদ মিয়া,খলিলুর রহমান মোল্লা,লুৎফুর রহমান লিটন,রবি হোসেন,সাজেদা খাতুন ও দিপালী রানী আরো জানান, বারংবার অনুরোধ সত্তেও মেয়র তিন বছরে মধ্যে মাসিক আয় ব্যায়ের হিসাব কোন সভায় উপস্থাপন করেননি।তাছাড়া মাসিক সভার রেজুলেশনের কপি সকল কাউন্সিলরদের প্রদানের বিধান থাকলেও তিনি তা না করে স্বেচ্চাচারিতা,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও একক ক্ষমতায় ইট ভাটার নামে ভুয়া ভাউচারে মাধ্যমে দেড় কোটি টাকাসহ মোটা অংকের অর্থ আতœসাত করেন। ইতঃপূর্বে এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশনে মেয়রের বিরুদ্ধে দুটি মামলা (নং-৫২০ ও ১২১) তদন্তনাধীন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, একটি কুচক্রি মহল তার সুনাম নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাউন্সিলরদের ক্ষেপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।সকল ব্যায় ভাউচারের হিসাব তার কাছে রয়েছে দাবি করলেও দুদকের মামলার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।




