ads

মঙ্গলবার , ১৩ মে ২০১৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে বেতাগীতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ : অবশেষে অপহরন মামলা রুজু

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ১৩, ২০১৪ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে বেতাগীতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ : অবশেষে অপহরন মামলা রুজু

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বেতাগীতে এইচ.এস.সি পরীক্ষার হল থেকে পরীক্ষার্থী অপহরনের চেষ্টার অভিযোগ দায়েরের পরেও মামলা না নেওয়ায় অবশেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নানা অজুহাতে মামলা নিতে গড়িমসি করে আসছিল বেতাগী থানা অফিসার ইন চার্জ। নির্যাতিতার মা কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দায়ের পর ৩ মে বরগুনায় মানবাধিকার বিষয় এক কর্মশালায় তিনি এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের দ্রæত মামলা নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। ফলে তার তৎপরতায় নড়েচড়ে বসেন পুলিশ প্রশাসন। ওইদিনই মামলা রুজু করে পুলিশ (মামলা নং- ২ তারিখ ৩/৫/১৪)। এতে পরীক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। মামলা না নেওয়ায় এত দিন পরীক্ষা কমিটি,অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন এবং আতংকের মধ্যে কাটাচ্ছিল ।
উপজেলার উত্তর হোসনাবাদ গ্রামের আবদুস সত্তার হাওলাদারের মেয়ে বেতাগী বালিকা বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজের এইচ.এস.সি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) শাখার পরীক্ষার্থী হাসি আকতার বেতাগী ডিগ্রী কলেজ ভ্যেনুতে ১০ এপ্রিল বিকেলে ব্যবসায় গনিত ও পরিসংখ্যান বিষয় পরীক্ষার দিন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যথারীতি কেন্দ্রে পৌছে। অতপর ৩নং পরীক্ষা কক্ষের মধ্যে প্রবেশের করে। এরই মধ্যে সদর ইউনিয়নের দক্ষিন বেতাগী গ্রামের আবদুল মন্নান সানু মিয়ার ছেলে তাইজুল ইসলাম(২৮) ও তার সহযোগী মকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ সবুজ(২০)সহ ৬-৭জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসিকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার হাত ধরে টেনে-হেচরে কক্ষের বাহিরে নেয়ার চেষ্টা করে। তার মা ও পরীক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে না নিতে পেরে মা রানী বেগমকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করে। চলে যাওয়ার সময় হাসিকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় এবং মোবাইল ভাংচুর করে। জানাগেছে, ঘটনার পূর্ব থেকেই তাইজুল ইসলাম বিভিন্ন সময় হাসি আকতারকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তাইজুলের বাবা আবদুল মন্নান সানু মিয়াকে হাসির মা ও তার নিকট আত্বীয় স্বজন অবগত করে তার ছেলেকে সংশোধন হওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তুু সানু মিয়া এতে কর্নপাত না করায় তাইজুল ও তার সহযোগিরা নানা প্রকারের হুমকি দিয়ে আসে। ঘটনার আগের রাতেও তাইজুল মুঠোফোনে হাসি আকতারকে অশোভন কথা বলে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এ ঘটনায় পরীক্ষা কমিটির পরামর্শে কমিটির সভাপতি ও বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ, ভাংচুর ও অপহরনের চেষ্টার অপরাধে সন্ধ্যায় হাসির মা রানী বেগম অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেতাগী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। মামলার বাদী রানী বেগম অভিযোগ করেন, অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বারবার ধর্না দিলেও এত দিন বেতাগী থানার অফিসার ইন চার্জ মামলা নিতে বিলম্বিত এবং ২নং আসামী মোঃ সবুজ কে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্ত মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের স্মরনাপন্ন হওয়ার পর কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ করে মামলা এফআইআর করে পুলিশ। ইতোপুর্বে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এ বিষয় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলা নেওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার বলেন,‘সাথে সাথে অপরাধীকে ধরতে না পারায় ধারা উল্লেখ করে আমার মাধ্যমেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর বিষয় আগেই গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। বেতাগী থানার অফিসার ইন চার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, বাদীর অভিযোগপত্র যথাযথ না হওয়ায় অভিযোগপত্রটি পুনরায় সংশোধন করে আনার পরামর্শ দিয়েছিলাম বলে মামলা নিতে বিলম্ব হয়েছে। পরীক্ষার্থী হাসি আকতার বলেন, আমি এ অপরাধের সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয় ড.মিজানুর রহমান বলেন,সব নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কাউকে অবহেলার সুযোগ নেই। অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক আইনের চোখে সবাই সমান। নির্যাতিতা বিচার না পেলে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে এসে প্রতিকার পেতে তাকে সাহায্য করবো।

Need Ads
error: কপি হবে না!