ads

সোমবার , ১২ মে ২০১৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে ওঠেছে কুমিল্লা দু’নির্বাচনী এলাকার হাট-বাজার ও অলি-গলি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ১২, ২০১৪ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

Upojela_Electionতাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা প্রতিনিধি : আর মাত্র ৮দিন বাকী কুমিল­া আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে প্রার্থীদের র্নিঘুম প্রচারণা। এরই মধ্যে ভোটাররাও তাদের প্রতীক্ষিত প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার প্রতীক্ষার প্রহর গুন্ছেন। আর তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যেমনি যাচাই হবে তেমনি আগামী ৫ বছরের জন্য উপজেলা পরিষদের কান্ডারী হিসেবে বিজয়ীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়- কুমিল­া আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ সমর্থিত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ (দোয়াত-কলম), ১৯ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী ফজলুল হক ফজলু (আনারস), ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম (তালা), বিএনপি প্রার্থী কুমিল­া সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মো: নবী নেওয়াজ (উড়ো জাহাজ), জামায়াত সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এ.কে.এম এমদাদুল হক মামুন (টিউবওয়েল), কোতয়ালী থানার ন্যাপ এর সহ-সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: খোকন হায়দার (টিয়া পাখী), স্বতন্ত্র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মঞ্জুর হোসেন (চশমা) এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মেয়র সাক্কু’র সমর্থিত প্রার্থী ফাতেমা বেগম বিপ্লবী (হাঁস), আ’লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসনেয়ারা বেগম (প্রজাপতি), ১৯দলীয় জোটের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন চৌধুরী (কলস) প্রতীক।
অপরদিকে, সদর দক্ষিণ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম সারোয়ার (কাপ-পিরিচ), ১৯দলীয় জোটের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ মাহবুব আলম চৌধুরী (দোয়াত-কলম),  মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থিত বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম খন্দকার স্বপন (টেলিফোন), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম (ঘোড়া), আ’লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মমিন মজুমদার ( হেলিকপ্টার), বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: কাউছারুল ইসলাম সুমন (মটর সাইকেল), জাপা সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক (আনারস)। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন- বিএনপি মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত প্রার্থী মো: সোহেল চৌধুরী (তালা), জাপা সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল কাদের (উড়ো জাহাজ), জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ নুরুল­াহ (চশমা), আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল হাই বাবলু (টিউবওয়েল) এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী কানিজ ফাতেমা (কলস) ও দেলোয়ারা বেগম (বৈদ্যুতিক পাখা) ও ১৯দলীয় সমর্থিত প্রার্থী মোসা: শাহিনা আক্তার (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম হয়ে ওঠেছে দু’নির্বাচনী এলাকার হাট-বাজার ও অলিগলি। চলছে পাড়া-মহল­ায় মাইকিং, প্রার্থী-সমর্থকদের সভা-সমাবেশ-উঠোন বৈঠক। প্রধান দু’জোটের প্রার্থীদের পোষ্টার লিফলেটসহ কৌশলী প্রচারণায় মুখরিত এলাকার চেহারাই গেছে পাল্টে। সাধারণ ভোটাররাও প্রার্থীদের ব্যাপারে করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আসন্ন কুমিল­া সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আর মাত্র ৮ দিন বাকী। চলছে প্রার্থীদের নিঘূম প্রচারণা। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন গণ-সংযোগে গিয়ে তাদের যোগ্যতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন।
এবার নির্বাচনে সদর ও সদর দক্ষিণ কোন হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত লড়াই হবে আওয়ামীলীগের সাথে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯দলীয় জোটের মধ্যে। কুমিল­া আদর্শ সদর উপজেলায় ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে, বিএনপি চায় পুনরূদ্ধার। এবার আদর্শ সদরে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুর রউফের সাথে ১৯দলীয় জোটের ফজলুল হক ফজলুর  হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে ।
ওই দুই দলের দু’ প্রার্থীরই সমানভাবে গ্রহণ যোগ্যতা যেমনি রয়েছে তেমিন কুমিল­ার সামাজিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ.কে.এম এমদাদুল হক মামুন ১৯দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা যেমনি বিজয়ী করতে একাট্টা তেমনি আমিনুল ইসলামকে বিজয় করতে আওয়ামীলীগেও ঐক্যের সুর রয়েছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের হোসনেয়ারা বেগম প্রচারণায় বেশ এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে বিএনপি’র প্রার্থী জেসমিন চৌধুরীও সমানতালে এগিয়ে চলেছেন।
ভোটাররা বলছেন- তাদের লড়াইও শেষ পর্যন্ত হবে হাড্ডা-হাড্ডি। এদিকে সদর দক্ষিণে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯দলীয় জোটের প্রার্থী উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আলম চৌধুরী একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। রাজনীতির বাইরে সামাজিক পরিমন্ডলেও তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। জনপতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর ক্লিন ইমেজ।
সদর দক্ষিণ বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকায় চেয়ারম্যান পদে তিনিই শেষ হাসি হাসতে পারেন বলে ভোটাররা মনে করেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার জহিরুল ইসলাম স্বপনও এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। মনিরুল হক চৌধুরীর নামের উপর তিনিও বিজয়ী হওয়ার শতভাগ নিশ্চিত বলেও জানা গেছে।
অপরদিকে, আওয়ামীলীগ চায় পুরো প্যানেল বিজয়ী হতে। পরিকল্পনা মন্ত্রী লোটাস কামালের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম সারওয়ার সামাজিক পরিমন্ডলে ব্যাপক পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীণ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এলাকায় রাস্তাঘাট,  পুল কালভার্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তাঁর অবদান রয়েছে। যার ফলে ভোটারদের কাছে তার যথেষ্ট ইমেজ রয়েছে।
এছাড়া তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে একাট্টা। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবিএম খোরশেদ আলমও চেয়ারম্যান পদে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি নির্বাচন করার জন্য মাঠে নেমেছেন।
এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মমিন মজুমদার, কাউছারুল ইসলাম সুমনও এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী আব্দুল হাই বাবলু সাথে লড়বেন ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা হোসাইন মোহাম্মদ নুরুল­াহ, এছাড়াও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত সোহেল চৌধুরী, জাতীয় পার্টি সমর্থিত আব্দুল কাদেরও বিজয়ীর ব্যাপারে আশাবাদী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত  কাজী দেলোয়ারা বেগমের সাথে ১৯ দলীয় জোটের একক প্রার্থী শাহিনা আক্তার লড়ছেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রী কানিজ ফাতেমাও বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। প্রশাসন কঠোর প্রদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে এমনটিই মনে করে বিজ্ঞ মহল।

Need Ads
error: কপি হবে না!