শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত ৩ কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দণ্ডবিধি বা বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আইন সংশোধনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়েছেন আদালত। একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১১ মে রবিবার দুপুরে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মো. খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালসহ ৩ জন। রিটে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের একজন বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্ব ওই কমিশন গঠনের আরজি জানানো হয়। আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, জনপ্রশাসনসচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিবাদী করা হয়।
উলেখ্য, ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তাঁর ৪ সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। ৩ দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৪ মে র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নজরুলসহ অন্যদের র্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এ জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি গত বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটি ১২ ও ১৫ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি করবে। সকাল ১০টায় ওই গণশুনানি শুরু হবে।




