ঠাকুরগাও প্রতিনিধি : রোগব্যাধি থেকে মুক্তিলাভ ও সন্তান লাভ এবং মনের বাসনা-কামনা পূরণে শতশত নারী পুরুষ মিলিত হয়েছিল ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর ১২ আউলিয়ার মাজারে। ৯ মে শুক্রবার দুর দূরান্ত থেকে নানা ধর্ম -বর্ণ-গোত্রের মানুষের সেখানে ছুটে যায়।

প্রতিবছর এই দিনে ওই মাজারে বার্ষিক উরস শরীফ আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাত,জিকির আজগার ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সব অনুষ্ঠানে ভক্তদের ভিড়ে সেখানে হয়ে ওঠে মহা সমাবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আদিবাসী মেয়ে দীপালি খালকো মাজারে এসে প্রণাম করলেন। আর বললেন হে ইশ্বর আমি যেন লেখা পড়া শিখে বড় হই। এর পরেই প্রনাম জানিয়ে আশিস কুমার তার গাভীর দুধ মাজারের একটি পাত্রে ঢেলে দিয়ে বললেন ভগবান আমার গাভীটি যেন সুস্থ থাকে । গনেশ দত্তের পরেই শিখা রাণী মাজারে মোমবাতি জ্বালিয়ে তার প্রভুকে ডাকলেন তার সন্তান যেন দুধে ভাতে থাকে । পাশেই ছিলেন মসলিম স¤প্রদায়ের ২৮ বছর বয়সী এক নারী নাসিমা বেগম। তিনি আগরবাতি জ্বালিয়ে দুহাত তোলে মোনাজাত করেন । এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান পুত্র সন্তানের আশায় মাজারে এসেছেন । ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত ১০টা বেজে ওঠে তখন এই বাসনার মেলা সাঙ্গ হয়। তবে আশ্বর্য্য এখানে দুই এক জন পুলিশ ছাড়া আর কোন পাহারাদার ছিলনা । কথা হয়ে ছিল মাজার কমিটির সদস্য হাসান আলীর সঙ্গে । তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত ওরস অনুষ্ঠানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সৃষ্টি কর্তাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করেন । তিনি আরও জানান, এই উপমহাদেশে যখন ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য বার আউলিয়ারা এদেশে এসেছিলেন । তখন থেকে এখানে ওরশ শরীফ আয়োজন করা হচ্ছে। মাজার কে ঘিরে বৈশাখের এই দিনে বিভিন্ন স¤প্রদায়ের নারী পুরুষ তাদের পবিত্র বাসনা পূরনে ওরস অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এই অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও পৌর সভার মেয়র এসএমএ মঈন পরিদশ করেন।




