রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে ভূয়া দাতা, গ্রহীতা ও দলিল দেখিয়ে স্কুল এমপিওকরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অলোচিত ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে তানোরের চাঁন্দুড়িয়া আবু বকর উচ্চ বিদ্যালয়ে। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ও সংশি¬ষ্ট বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ৪মে রোববার এব্যাপারে এলাকাবাসির পক্ষে আলফাজ উদ্দিন বাদি হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমানকে বিবাদী করে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভুমি) কাছে প্রেরণ করেছেন।অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, তানোরের চাঁন্দুড়িয়া মৌজায় ১১১৭ দাগে মোট ৩ একর ২৩ শতক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে আরএস ৬৮ নম্বর খতিয়ানে এক একর ৫০ শতক ক্রয় করেছেন আব্বাস মন্ডলের পুত্র হাকিম মন্ডল ও আরএস ২২ নম্বর খতিয়ানে ২৬ শতক ক্রয় করেছেন আজমত উল¬াহ দিগর। ফলে ১১১৭ দাগে মোট ৩ একর ২৩ শতক সম্পত্তির মধ্যে এক নম্বর সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত হিসেবে ৮৪ শতক সম্পত্তি মালিক বিহীন সরকারি খাস হিসেবে রয়ে যায়। কিšত্ত ভূয়া দলিল দেখিয়ে ১৫২/৮৪ কেসমূলে এক নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ওই ৮৪ শতক সম্পত্তি আবু বকরের কন্যা সামসুন্নাহার দিগর আবু বকর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠানের নামে দান করে দেন। এদিকে ওই ভূয়া দলিলের বিরুদ্ধে আলফাজ উদ্দিন দিগর রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে ১০৬/৮৮ নম্বর কেসমূলে ১৫২/৮৪ নম্বর কেস বাতিল করে আলফাজ দিগরের পক্ষে রায় দেন। এর ফলে স্কুলের নামে আর কোনো সম্পত্তি রইল না। অথচ স্কুলের প্রধান শিক্ষক চাঁন্দুড়িয়া মৌজায় ১১১৭ নম্বর দাগের ৩ একর ২৩ শতক সমস্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছেন। এমনকি এসব সম্পত্তির ওপর আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিšত্ত আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে নালিশী সম্পত্তির ওপর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এব্যাপারে স্কুলের সভাপতি এমরান আলী বলেন, তিনি সবেমাত্র স্কুলের সভাপতি হয়েছেন। স্কুল প্রতিষ্ঠায় কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠায় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়ে থাকলে সেই দায় তার নয়। তিনি বলেন, যারা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। এব্যাপারে তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, চাকরি জীবনে তিনি এতো বড় ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা দেখেননি। তিনি বলেন, স্কুলের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এব্যাপারে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমূল হক বলেন, প্রতিষ্ঠান এমপিওকরণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে তার করনীয় কিছু নেই। তিনি বলেন, ডা, আবু বকর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পেলে তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এব্যাপারে চাঁন্দুড়িয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে এই জন্য কেউ এতোদিন কোনো প্রতিবাদ করেনি।




