অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : প্রচন্ড তাপদাহে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত ২০ দিন থেকে বৃষ্টির দেখা নেই বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে। দু’দিন যাবৎ রাত্রে দমকা ঝড়োহাওয়া দেখা দিলেও তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তাই তীব্র তাপদাহের মাঝে একটু স্বস্তি পেতে শৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মধু মাসের ফল তালের শাঁসের কদর বেড়েছে।

বিভিন্ন উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে বিক্রেতারা এখন হরদম বিক্রি করছেন তাল শাঁস। কোন কোন বিক্রেতা ভ্যানযোগে পাড়া ও মহল্ল¬ায় ঘুরেও তাল শাঁস বিক্রি করছেন। উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ঘুরে তাল শাঁস ক্রয় করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে কয়েক শ’ পরিবারের লোকজন। গৈলা গ্রামের তালের শাঁস বিক্রেতা ফজর আলী জানান, প্রতিবছর মধুমাসে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাইকারি দামে তালের শাঁস ক্রয় করে বিক্রি করেন। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় উপজেলার অসংখ্য তালগাছ বিনষ্ট হয়েছে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় উপজেলার সর্বত্র তালের শাঁসের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চড়ামূল্যে এ মৌসুমী ফল বিক্রি করতে হচ্ছে বলেও জানান। প্রতিটি তালের শাঁস তিনি ১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে তার প্রতিদিন তিন থেকে চার শ’ টাকা আয় হচ্ছে। সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তি পেতে ভিড় করছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের কাছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, গাড়ি থামিয়ে অনেক সৌখিন ক্রেতারাও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য কাঁদি হিসেবে তালের শাঁস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রিক্সাচালক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী-পেশার লোকজনই মৌসুমী ফল তালের শাঁস কিনতে ভিড় করছেন বিক্রেতাদের কাছে। চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় বিক্রেতাদের সংগ্রহ করে আনা তালের শাঁস মূহুর্তের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।




