ads

বুধবার , ৩০ এপ্রিল ২০১৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কপোতাক্ষ খনন করে সরু খাল করা হচ্ছে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
এপ্রিল ৩০, ২০১৪ ৫:১২ অপরাহ্ণ

mmmmমো. নজরুল ইসলাম , সাতক্ষীরা :  নদটি খনন করে সরু খাল করা হচ্ছে। খননকৃত মাটির স্তূপ করে রাখা হচ্ছে নদের ভিতরে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলে এ মাটির স্তূপ ধসে নদ ফের ভরাট হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ অবস্থা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদের। বর্তমানে প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। তবে এ খনন কাজ বাস্তবায়নে অভিযোগ উঠেছে দূর্নীতি ও অনিয়মের।
কপোতাক্ষ নদ ঝিনাইদহ’র মহেশপুর উপজেলার তাহেরপুর নামক স্থান থেকে উৎপত্তি হয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, যশোর’র ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও মনিরামপুর, সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, আশাশুনি ও শ্যামনগর এবং খুলনার পাইকগাছার শিববাড়ি শিপসা নদীর ত্রিমোহনায় মিশেছে। কপোতাক্ষ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ কিঃমিঃ। বর্তমানে সাত কিঃ মিঃ বাদে এ নদের সবই পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে কপোতাক্ষ তীরের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) দপ্তর থেকে জানা যায়, প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালের জুলাই মাসে চার বছর মেয়াদী কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খননে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। এ খনন কাজ ১৫ টি গ্রæপে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে ১৯ হাজার ৪৫০মিটার, দুই জন ইউপি চেয়ারম্যানকে ৮৫৫ মিটার ও চার জন ইউপি সদস্যকে ৯৪৫ মিটার।
কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্টান হলো যশোর সদরের মেসার্স কপোতাক্ষী এন্টারপ্রাইজ, এমএসসি-একেএ (জেভি), কেএমআই-এমজিআর (জেভি), এমএএইচ-এমজিএফ (জেভি), এমএসসি-একেএ (জেভি), মেসার্স রেজা এন্টারপ্রাইজ, এসএনএইচ-এমজিআর (জেভি), মোঃ নূর হোসেন, এমএসসি-এএন্ডসি (জেভি), এমইবিএল-কেই (জেভি), সাতক্ষীরা সদরের এসএইউ-এমকেই (জেভি) ও খুলনার মোঃ শামিম আহসান। এছাড়া তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন, এই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শামসুল আলম, ইউপি সদস্য সিদ্দিক হোসেন, ইউপি সদস্য নিমাই সানা, এই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু ১৪, এই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ।
কপোতাক্ষ নদ খননের নকশা অনুযায়ী, নিচে (তলা) ১০৩ ফুট (৩১.৪০মিটার ) থেকে শুরু করে (স্থান বিশেষ) ১৩০ ফুট (৩৯.৬৪মিটার) পর্যন্ত চওড়া (প্রস্থ) হবে। আর উপরে (মাথা) ১৪৮ ফুট (৪৫ মিটার) থেকে শুরু করে (স্থান বিশেষ) ২০৩ ফুট (৬২ মিটার) পর্যন্ত চওড়া (প্রস্থ) হবে। এবং গভীরতা হবে ১০ ফুট (৩.১০ মিটার) থেকে শুরু করে (স্থান বিশেষ) ১৪ ফুট (৪.২০ মিটার) পর্যন্ত।
কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলি শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, খননের মূল নকশা থেকে চলতি অর্থবছরে (২০১৩-১৪) খনন করা হচ্ছে, নিচে (তলা) ৩৩ ফুট (১০মিটার ) ও উপরে (মাথা) ৪৯ ফুট (১৫ মিটার) এবং গভীরতা সাড়ে ৬ ফুট (২ মিটার)। সরেজমিনে তালা উপজেলার মাগুরা, বারুইপাড়া ও চরগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের এক পাশে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে খনন করা হচ্ছে। আটটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) এই খনন কাজ করছে। খননের মাটি নদের ভেতরে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। আবার কোন কোন স্থানে (স্থান বিশেষ) চাচা-ছোলা করা হচ্ছে বা হয়েছে। সব মিলিয়ে দায়সারা ভাবে খনন করা হচ্ছে কপোতাক্ষ নদ।
মাগুরা গ্রামের জহর আলী গাজী জানান, কপোতাক্ষ নদের তলা ২২ থেকে ২৫ ফুট, উপরে ৩৫ থেকে ৪০ ফুট ও তিন থেকে চার ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। খননের মাঠি নদের ভেতরে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। বর্ষা হলেই এ মাঠিতে নদ আবার ভরাট হয়ে যাবে।
মাগুরা গ্রামের শিক্ষক জনাব আলী জানান, কপোতাক্ষ নদ খননে আগেও যে লুটপাট হয়েছে, এবার তাই হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা কপোতাক্ষকে দুধের গাভী হিসেবে ব্যবহার করছে। খননের নামে তারা লুটপাট ছাড়া কিছুই বোঝে না।
মাগুরা গ্রামের নিমাই দেব নাথ বলেন,‘ খনন করে যে ভাবে মাটি রাখা হচ্ছে, এতে ভূমিদুস্যদের চর দখলের সুবিধা হবে। এবার যে যার মতো এ নদের জমি দখল করে নেবে।’
বারুইপাড়া নারায়ন দেবনাথ অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ তেমন তদারকি করে না। ফিল্ডে আসে না ঠিকমতো। এজন্য ঠিকাদাররা সুযোগ পায়।এমন কথা মাগুরা গ্রামের সুফিয়া বেগম, সাদ্দাম হোসেন, গনেশ মন্ডল, বিধান রায়সহ কয়েক জনের।
খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) চালক মিজানুর রহমান বলেন, নদের এক পাশ খনন করা হচ্ছে। এই মাটি নদের তীরে রাখা হচ্ছে। পরে এ মাটি অপসারণ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী খনন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যে ভাবে বলেছে, সেই ভাবে খনন করছি।’
ঠিকাদারের পক্ষে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা জামানুল হক মুন্নি জানান, নকশা অনুযায়ী খনন করার চেষ্টা করছি। তবে সব সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয় না। তিনি বলেন,‘যশোরের এমএসসি-একেএ (জেভি) ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মালিক শামিম চাকলাদার বাবু সহ ১২জন ঠিকাদার এই খননের কাজ বাস্তবায়ন করছেন।’
কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম জানান, কপোতাক্ষ নদ মুল ডিজাইন অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। লোক দেখানো খনন করে লুটপাট করা হচ্ছে। নকশা অনুযায়ী খনন হচ্ছে না।
এমএসসি-একেএ (জেভি) প্রতিষ্টানের মালিক শামিম চাকলাদার বলেন, ‘নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে। তবে খননকৃত মাঠি আপাতত নদের ভেতর রাখা হচ্ছে। এ মাটি নদের ভেতর থেকে অপসারণ করা হবে।’ একই কথা বলেছেন ঠিকাদার মোঃ শামিম আহসান।
কাজ তদারকি কর্মকর্তা (এসও) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, খনন কাজে কোন প্রকার অনিয়ম হবে না। ফিল্ডে না আসার প্রশ্নই ওঠে না। ঠিকাদারদের দিয়ে সুষ্ট ভাবে কাজ করানোর জন্য মাঠে পড়ে আছি।
খেশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন কপোতাক্ষ খননের কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলেন,‘নামে আমি কাজ পেয়েছি। ভেতরে অনেকই এ খনন কাজের সাথে আছে।’
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ মশিউর রহমান বলেন, নদের ভেতরে কোন মাটি রাখা যাবে না। খননের মাঠি নদের ভেতর থেকে অপসারণ করতে হবে। সবকিছু সঠিক ভাবে খনন না হলে ঠিকাদার বিল পাবে না।

Shamol Bangla Ads

মোবাইল : ০১৭১৬-৮০৪১৬১

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!