আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) : ঠাকুরগাওয়ের রানীশংকৈলে চলছে বিদ্যুতের বেপরোয়া লোডশেডিং আর বিরামহীন অনাবৃষ্টি। কোন নোটিশ ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং চলে আসছে প্রতিনিয়ত। প্রচন্ড রোদ আর তাপপ্রবাহে মুখ থুবড়ে পড়ছে কৃষক।

অনাবৃষ্টিতে পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় বোরো ক্ষেতে আগের তুলনায় বেশী পানির দরকার। বিদ্যুতের লোডশেডিঙের কারনে তা সম্ভব হচ্ছেনা। অনেকে জমিতে ৬-৮ ফুট গর্ত করে পানি উঠানোর চেষ্টা করে বিফল হচ্ছে কৃষক। কাজে লাগছেনা তাদের কর্মপরিকল্পনা।
দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারনে পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। উপজেলার সর্বোচ্চ লোডশেডিং সর্বকালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দিনরাত মিলে ৭-৮ বেশী বিদ্যুৎ থাকছেনা। অতিমাত্রায় লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কারনে সেচযন্ত্রসহ ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফ্যান, টেলিভিশন সহ মুল্য বিদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে।

এবছর উপজেলায় ১০ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চাষ করা হয়েছে ১০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে।
বোরো চার্ষিরা লোডশেডিং এর কারনে বেকায়দায় পড়েছে। স্বল্প সময় বিদ্যুৎ থাকার কারনে কৃষকদের মাঝে পানি নেয়ার প্রতিযোগিতা চলে। অনেক সময় এনিয়ে ধাক্কাধাক্কি থেকে মারধর পর্যন্ত গড়াই।
রানীশংকৈল উপজেলায় পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ লিটার ডিজেল ব্যয় হলেও এখন তা বেড়ে ২৫-৩০ লিটার পর্যন্ত লাগে। তাছাড়া সময় লাগে আগের তুলনায় অনেক বেশী। সেচ কাজে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্তশীল হওয়ার আহবান সকলের।




