ads

বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল ২০১৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কুমিল্লায় অনুমোদনবিহীন রিকশা ও অটোরিকশা’র ছড়াছড়ি

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
এপ্রিল ২৪, ২০১৪ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

Auto Bike- CNG- Riskha Pic-2তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : অনুমোদনবিহীন রিকশা, অটোরিকশা (ইজিবাইক), ইঞ্জিনচালিত রিকশা গুলো নগরীর অলি-গলিতে দেদারছে চলাচল করছে। এদের বেশীর ভাগই নেই বৈধ কাগজপত্র। চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ সমস্ত যানবাহন গুলো কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড়, শাসনগাছা, রাজগঞ্জ, ছকবাজার, টমছমব্রীজ ও পুলিশ লাইন সহ নগরীর অলি-গলিতে অবাধে চলাচল করছে। নগরীতে অনুমোদনবিহীন রিকশা ও অটোরিকশার ছড়াছড়ি ফলে প্রতিনিয় দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ভোগান্তির শিকার যাত্রী সাধারণ। উল্লেখ্য যে, গত ২০১২ইং সনের ১৭ জুন কুমিল্লা জেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটি’র সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৬ জুলাই থেকে কুমিল্লা মহানগরীতে ইজিবাইক (অটোবাইক) চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও মানছেন অটোচালকরা। এদিকে সার্জেন্ট সোহেল স্যার আতংকে নগরীর অটোবাইক চালকরা। তাঁকে দেখা মাত্রই পালানোর চেষ্টা করে। কারণ সোহেল স্যার অটোবাইকটি আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ লাইন থেকে ৩দিন পরে ২ হাজার টাকা দিয়ে ছুটাইয়া আনতে হয়।

Shamol Bangla Ads

এদিকে, জৈনিক অটোরিকশা চালক বাবুল মিয়া জানান- প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অটোবাইক অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা রোজগার করলেও অটোবাইক মালিকদেরকে প্রতিদিন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ টাকা ভাড়া দিতে হয়। রোজগারের বাকী টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছি। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ অটোবাইক চালকই বেকার যুবক। ওই সব বেকার যুবকরা সরকারি কিংবা বে-সরকারী কিংবা আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না পেয়ে বিকল্প চাকুরী হিসেবে অটোবাইক চালাতেন। নগরীতে ইজিবাইক বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার যুবক বেকার হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোচালক জানান- ট্রাফিক পুলিশ ধরলে ৩০/৪০ টাকা দিলে ছেড়ে দেন। কিন্তু সার্জেন্ট সোহেল স্যার অটোবাইক আটক করে সোজা পুলিশ লাইনে নিয়ে যান। আটকের ২/৩দিন পর পুলিশ লাইন থেকে ২ হাজার টাকা দিয়ে ছুটাইয়া আনতে হয়। কারণ সার্জেন্ট সোহেল স্যার খুদ খেয়ে পেট নষ্ট করে না বিধায় অটোবাইক আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যান। এমনকি সার্জেন্ট সোহেল স্যারের লাঠির বারিও খেতে হয়। সোহেল স্যার কাউকে ক্ষমা করেন না।
একজন অটোরিকশা যাত্রী অমল মজুমদার ও আখি আক্তার বলেন- সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন যদি এ সব যান বাহন গুলোর বৈধ কাগজপত্র দিয়ে ভাড়া নির্ধারন করে দেন তাহলে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাগব হবে এবং নগরীতে লাইসেন্সবিহীন রিকশা, অটোরিকশা (অটোবাইক) কিংবা ইঞ্জিন চালিত রিকশা গুলো বন্ধ করে দিলে নগরীর যানজট মুক্ত করা সম্ভব। আরেক যাত্রী বলেন, নগরী’র প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে বিকল্প যানবাহন হিসেবে টাউন সার্ভিস চালু করলেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ যানজট রোধ করা সম্ভব।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক অভিবাদনের সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, “ইজিবাইক চালকদের চাই কর্ম সংস্থান, সাধারণ যাত্রীদের চাই বিকল্প যানবাহন”।

অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ নগরীর শাসনগাছা, রামঘাটলা, টমছমব্রীজ, ছকবাজার, ঈদগাঁ সংলগ্ন সিএনজি ষ্ট্যান্ডসহ অধিকাংশ সিএনজি’র নেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অর্থোরেটি (বিআরটিএ)’র রেজিষ্ট্রেশন নম্বর। ওই কাগজপত্র বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা গুলোর বেশিরভাগই চুরি এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে প্রবেশ করা, যা এলাকায় ‘টানা’ বলে চিহ্নিত। প্রায় এক যুগ পূর্বে বাংলাদেশে জ্বালানী সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব সিএনজি অটোরিক্সার আগমন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি ধাপে ভারতীয় বিখ্যাত বাজাজ কোম্পানীর তৈরি এই সিএনজি অটোরিক্সার আমদানীর পর থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন মাধ্যমে সয়লাব ঘটে এ যানের। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ওই সিএনজি অটোরিক্সার নম্বরের প্ল্যাইটে অন-টেষ্ট, এ. এফ.আর লেখার পাশা-পাশি (ঢাকা- ঢ) এমন সমাপ্ত নম্বর লিখে চলছে বছরের পর পর। প্রশাসনের কোন নজর না থাকায় এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সম্প্রতি কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা গুলোতে সিএনজি অটোরিক্সা চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চোর ও ছিনতাইকারীরা আন্ত:জেলা চোর-ছিনতাইকারী চক্রের সাথে জড়িত হয়ে ওই চুরি ও ছিনতাইকৃত সিএনজি অটোরিক্সাগুলো আবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এ সব চুরি ও ছিনতাইকৃত সিএনজি গুলোর নম্বর মুছে বা নম্বর অস্পষ্ট করে চলছে মহাসড়ক সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।
সরেজিমন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিন চলছে শত শত সিএনজি। ওই সব সিএনজি গুলোর প্রায় অর্ধেকেরও বেশি নম্বর বিহীন এবং নম্বর অষ্পষ্ট। নম্বর ছাড়া সিএনজি থাকার কারণে অপরাধিদের অপকর্মের হারও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর কান্দিরপাড় সিটি রেষ্টুরেন্ট এর সামনে, পূর্বালী চত্ত্বর (রাণীর বাজার রোড) ও শক্তি ঔষধালয় (রাজগঞ্জ রোড ও জিলা স্কুল রোড) এ অবৈধ সিএনজি ও অটোবাইক ষ্ট্যান্ড গড়ে ওঠেছে। এ সমস্ত অবৈধ ষ্ট্যান্ডগুলো দেখার কেউ নেই।

Need Ads
error: কপি হবে না!