শামসুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে চাষিদের আশার আলো দেখিয়েছে জিংক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভাবিত ব্রি-ধান-৬২। উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবন কাল, ভাত সুস্বাদু, উচ্চ জিংক ও প্রটিন সমৃদ্ধ এ জাতের ধান উদ্ভাবন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম। যা বাংলাদেশে চাষী পর্যায়ে সর্বপ্রথম কেশবপুরেই পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে বাম্পার ফলস হয়েছে। এ জাতের ধান চাষে চাষীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

জানাগেছে, জিংকের অভাবে মানুষের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয় না। আমাদের দেশে জিংকের অভাব রয়েছে। যা অন্য খাদ্য থেকে পূরণ করা সম্ভব নয়। একথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান-৬২। কেশবপুরের বীজ ব্যবসায়ী সিলভার সীড ফার্মের মালিক নূরুল ইসলাম চলতি বোরো মৌসুমে গাজীপুর সরকারি বীজ উৎপাদন খামার থেকে এ বীজ সংগ্রহ করে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধানে আলতাপোল গ্রামের কৃষাণী লুৎফা বেগমের ক্ষেতে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়।
চাষী লুৎফা বেগম জানান, তিনি ১বিঘা জমিতে ব্রি-ধা-৬২ জাতের ধান আবাদ করে ১৩৫ – ১৪০ দিনে ২৮ মন ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ জাতের ধান ব্রি-ধান-২৮ এর মতো ফলন হলেও ধান চিকন হওয়ায় এর বাজার দরও বেশি হবে। নিয়মিত সেচ, পরিচর্যা ও সুষম সার ব্যবহারে এ ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ধান উৎপাদন দৃষ্টান্ত অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে তারই জমির পাশে আয়োজন করা হয় চাষী সমাবেশ। ২২ এপ্রিল বিকেলে চাষী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি স¤প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এজেডএম মমতাজুল করিম, কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ.এম আমির হোসেন, এসএমএসপিএ এর চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, হার্ভেস্ট প্লাসের ড. খায়রুল বাশারসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এজেডএম মমতাজুল করিম বলেন, আমাদের দেশে খাদ্যে জিংকের অভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন গবেষণা করে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান-৬২ জাত উদ্ভাবন করে। যা এদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম চাষী পর্যায়ে কেশবপুরে আবাদ করা হয়। আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এজাতের ধান বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ফসল। জিংকের ঘাটতি পূরণে এজাতের ধান অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জনে সম্ভাবনাময় ব্রি-ধান-৬২ জাতের আবাদ ব্যাপক প্রসারতা ও চাষীদের উৎসাহিত করতে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আগামী মৌসুমে দেশের ৫ থেকে ৬ হাজার চাষীর মাঝে এ ধান বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
কেশবপুরে শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস
যশোরের কেশবপুরে কৃষি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের (আপি) উদ্যোগে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ প্রযুক্তি বিষয়ক শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস মঙ্গলবার বিকেলে মূলগ্রাম হাজী পুকুর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কৃষক আব্দুল মতলেব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার দাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আপি প্রকল্পের ফিল্ড মনিটরিং অফিসার কৃষিবীদ তোফাজ্জেল হোসেন। অন্যদের মধ্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, নজরুল ইসলাম খান, বদরুদ্দোজা, দ্বিপজয় বিশ্বাস, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে কৃষাণী রেহেনা খাতুনের ব্রি-ধান-২৮ জাতের শস্য কর্তন করে গুঁড়া ইউরিয়া প্রয়োগকৃত ক্ষেতে বিঘা প্রতি (৪২ শতক) ২৮ মন ও গুটি ইউরিয়া প্রয়োগকৃত ক্ষেতে ৩০ মন ধানের উৎপাদন রেকর্ড করা হয়।




