ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর আদি বরেন্দ্র অঞ্চল পানির জন্য খাঁ খাঁ করছে। দীর্ঘ প্রায় ৫-৬ ধরে এ উপজেলায় কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল বিল নদীনালা পুকুরডোবা সবকিছু শুকিয়ে গেছে। পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের বসবাসের অনুপযোগি হয়ে উঠেছে।
আদি বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ধামইরহাট উপজেলার প্রধান ফসল ধান,গম,আলু,সরিষাসহ অন্যান্য শাক সবজি। কৃষকরা জমিতে পানি সেচ দিয়ে ইরি বোরো ধান রোপন করে। কৃষকদের সঠিক পরিচর্যা ও সার কীটনাশক প্রয়োগে ধানগাছগুলো সতেজ হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বছর বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৫-৬ মাস ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে খালবিল,পুকুর ডোবা,নদীনালা সব কিছু শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এবার প্রায় ১৮ হাজার ৭শত ৭০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এমনিতে আদি বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত এ উপজেলায় বৃষ্টিপাত দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। প্রায় ২০-২২ বছর পূর্বে একমাত্র আকাশের বৃষ্টির উপর ভরসা করে উঁচু এলাকাগুলো ধান চাষের আওতায় আনা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমির কঠিন শক্ত মাটিতে সোনা ফলতে শুরু করেছে। এতে গেল বরেন্দ্র ভূমির খরা মওসুমের কথা। অত্র অঞ্চলের ভূমির গঠন উঁচু-নিচু হওয়ার কারণে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে এলাকার কৃষকগণ আমন ধান চাষ করে থাকে। কিন্তু বোরো ধান চাষ সম্পূর্ণরুপে নির্ভর করে যান্ত্রিক সেচ সুবিধার উপর। দীর্ঘদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে কৃষকদেরকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পানি সেচের মাধ্যমে ইরি বোরো ধান বাঁচানো চেষ্টা করছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে এলাকায় উঁচু অঞ্চলে ইরি বোরো ধান ক্ষেতে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। ফলে ধানের ফলনে কম হয়ায় আশংকা রয়েছে।




