স্টাফ রিপোর্টার : নিজের একটু ভুলের কারণে এক পরীক্ষার্থীর ভাগ্যে জুটেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের একটি কেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায়। সদর উপজেলার সাহাব্দীরচর গ্রামের জাকির হোসাইন (২৩) নামে ওই পরীক্ষার্থী এখন ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারের প্রকোষ্ঠে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ওই ঘটনায় ১৯ এপ্রিল শনিবার সাজাপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল হাশেম সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

জানা যায়, শুক্রবার শেরপুর শহরের এসএম মডেল স্কুল কেন্দ্রে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তৌসিফ আহমেদ এডমিটকার্ড সাথে না থাকায় ভূয়া পরীক্ষার্থী সন্দেহে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী স্থানীয় সাহাব্দীরচর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে জাকির হোসাইনকে আটক করেন। এরপর আটক পরীক্ষার্থী জিজ্ঞাসাবাদে জানান যে, তিনি নিজ বাসা থেকে পরীক্ষার এডমিটকার্ড এর পরিবর্তে ভুলবশতঃ ছবিসমেত আবেদন ফর্ম নিয়ে পরীক্ষা দিতে যান। ওই সময় তিনি নিজের ভুলটি উলেখ করে বাড়িতে রেখে আসা এডমিটকার্ড এবং মোবাইল ফোন তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে এডমিটকার্ড ও মোবাইলে আবেদনের কনফার্মেশন মেসেজ দেখিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপরও বিধিবাম! কোন কিছুই আমলে আসেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভূয়া(?) পরীক্ষার্থীর দায়ে তাকে দেওয়া হয় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকার নেতা এডভোকেট প্রদীপ দে কৃষ্ণ জানান, ভূয়া পরীক্ষার্থী সন্দেহে আটকের পর সঠিক কাগজপত্রাদি দেখানোর পরও কোন পরীক্ষার্থীকে সাজা দেওয়া হয়ে থাকলে তা কেবল দুঃখজনকই নয়, আইনের বরখেলাপও। তবে বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট সাজাপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থী অবশ্যই খালাস পাবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।




