চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও নানা সমস্যায় চিকিৎসা সেবা ও কার্যক্রম চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়। এখানে ১০৬ টি পদের মধ্যে ৩৫ টি পদ শূণ্য। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই হাসপাতালটি এখন চলছে দায়সারা ভাবে। তাই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত অসহায় মানুষ গুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের উপর থেকে আস্তা হারাতে বসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ১৮ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। এর পর জোড়াতালি দিয়ে চলতে থাকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১১ সালের ২২ জুন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন ৫০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় সেবার মান অত্যান্ত নাজুক রয়েছে। হাসপাতালটির ওটি রুম (অপারেশন থিয়েটার) দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম। নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ নারী-পুরুষের জন্য ১৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ৫ জন কর্মরত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ৯টি পদ শুন্য রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীর ৯৩ টি পদের মধ্যে ৭৮ জন কর্মরত থাকলেও ১৪টি পদ শুন্য। ১০ জন নার্স বেতন তুললেও কর্মরত রয়েছেন ৫ জন। অপর জোনের মধ্যে সুপারভাইজার সালেহা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, নমিতা হালদার কচুয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, মাজেদা খানম পিরোজপুর সদর হাসপাতালে। এছাড়া সান্তনা রানী আছেন হাসপাতালের মালামাল চুরির অপরাধে বহি®কৃত। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত মানের এক্স-রে মেশিনটি রয়েছে বন্ধ। চালু নেই অপরাশেন থিয়েটারটি। এদিকে ল্যাব টেকনোলজিষ্ট না থাকায় ল্যাবটি রয়েছে বন্ধ। এ কারণে নিম্ন আয়ের রোগীদের বাহিরে থেকে উচ্চদরে এক্স-রে, রক্ত, মল, মুত্র ও কফ বাহির থেকে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। ডাক্তার সংকট থাকা স্বত্তে¡ও অফিস সময় ডাক্তারদের বাহিরে প্রাইভেট রোগী দেখার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান সরকার এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্র“তিকে বাস্তবায়ন করার জন্য ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করেছেন। তবুও অসহায় সাধারণ মানুষ চিতলমারী হাসপাতাল থেকে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী চিতলমারী ও বাগেরহাট সদরের (স্থানীয়) হওয়ায় সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সচেতন মহল জানিয়েছেন।




