আনোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাও : ঠাকুরগাওয়ের ৫ উপজেলায় এক সময় মৃত শিল্প মাটির তৈরী হাড়ি পাতিলের বেশ চাহিদা থাকলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে মাটির তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা আগের দিনের তুলনায় অনেক কমে য়ায়। এ পেশার সাথে জড়িতরা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। চোখে অন্ধকার দেখছে জেলায় এ পেশার সাথে জড়িত পরিবারের হাজার হাজার মানুষ।
এক সময় রাজা বাদশারাও মৃতশিল্পের জিনিসপত্রের প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলো। এশিল্পের জিনিস পত্র রাজা বাদশারা বছরের পর বছর ব্যবহার করতেন। মাটির তৈরী হাড়ি পাতিল নানা কারুকার্জে রাঙ্গিয়ে পাটের তৈরী শিখায় টাঙ্গিয়ে ঘরের শোভা বৃদ্ধি করতো। নানা নক্সায় মাটির ব্যাংক তৈরী করা হতো অল্প অল্প করে টাকা জমা রাখার জন্যে। রান্না বান্না থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি ক্ষেত্রে মাটির তৈরী বাসন পত্র ব্যবহার করা হতো।
মাটির তৈরী সুরার ভেতর পানি রাখলে তা বরফের মতো ঠান্ডা থাকতো। সেই পানি খেয়ে চৈত্রের তাপদাহে বুক ফাটানো তৃষ্ণা মেটাতো মানুষ।
কাল পরিবর্তনে সভ্যতার আবির্ভাবের সাথে সাথে মাটির জিনিস পত্রের পরিবর্তে প্লাষ্টিক, চিনামাটি, মেলামাইনসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরী বাসনপত্র জায়গা দখল করে নিয়েছে। এসব বাসনপত্র বেশ টেকসই ও আকর্ষনীয় হওয়ায় মাটির জিনিস পত্রের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে অনেকটায়।
রাণীশংকৈল উপজেলার নব কুমার হাড়িসহ তার পরিবারের লোকজন জানায়, মাটির জিনিস পত্র তৈরী করে আগে স্বাচ্ছন্দে সংসার চলতো, এখন আর তা হয়না কষ্ট হয়।
সমাজে অভিসপ্ত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বেকারত্ত¡ দূরীকরণে মৃত শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারের লোকজনকে উপার্জনমুখি করে গড়ে তুলতে সরকারী, আধা-সরকারী, বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরী।




