আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই-পতিসর সড়কের সংস্কার কাজ এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন থেকে এ সড়কের বেহাল দশা হয়ে থাকায় এলাকাবাসীকে পোহাতে হত চরম দূর্ভোগ। আত্রাই থেকে পতিসর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছিল কয়েক বছর যাবত।

এ সড়কটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত শত ভটভটি, সিএনজি, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে থাকে। এছাড়াও কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় বোরো ধানের মৌসুমে প্রতিনিয়ত ধান ভর্তি ট্রাক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এদিকে পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠি বাড়ী। কবির স্মৃতিধন্য পতিসর বর্তমানে অনেকটা পর্যটক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন রবীন্দ্র ভক্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফর দল পতিসরে এসে থাকে। এছাড়াও নাটোরের সিংড়া, বগুড়ার নন্দীগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হয় এ সড়কটি। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকার বিষয়টি ইতিপূর্বে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় খবরটি ছাপার পর বিষয়টি নজরে নেয় কর্তৃপক্ষ। যার প্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে ৩কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে। এ রাস্তা সংস্কার হওয়ার যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসী ও যানবাহন চলকরা পাবেন ব্যাপক সুফল।
নওদুলী গ্রামের মোঃ শফির উদ্দিন বলেন, এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দূর্ভোগ পোহাচ্ছিলাম। বিশেষ করে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে আমরা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হিমসিম খাচ্ছিলাম। ফলে আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল পাচ্ছিলাম না। রাস্তাটি সংস্কারের ফলে আমরা যথেষ্ট উপকৃত হবো। আত্রাই-কালিগঞ্জ রুটের সিএনজি চালক আব্দুস শুকুর টুকু বলেন, এ রাস্তা সংস্কারের ফলে এ রোডে গাড়ি চালাতে আমাদের আর জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে না। সেই সাথে সময়েরও যথেষ্ট সাশ্রয় হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি সদরুল ইসলাম বলেন, গত বছর সড়কটি মেরামতের জন্য চাহিদাপত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে নওগাঁ জেলার সর্বোচ্চ বরাদ্দ আত্রাই উপজেলায় দেয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যায়ে। আত্রাইয়ের কাশিয়াবাড়ী জিসি টু কাজিগঞ্জ রোডের প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ প্রায় শেষ পর্যায় এসে পৌঁছে গেছে। কাজের গুনগত মান ভাল করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে এবং এলাকাবাসী এ ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।




