নরসিংদী প্রতিনিধি : ‘মাঘে বোল, ফাগুনে গুটি, চৈত্রে কাটি-কুটি, বৈশাখে দুধের বাটি’।- এটি আবহমান বাংলায় প্রচলিত একটি খনার বচন। এই বচনটির মাধ্যমে বাংলাদেশে আমের মওসুমের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। খনার এই বচনটি বই’র পাতায় প্রবীনদের মুখে মুখে যুগযুগ ধরে উচ্চারিত হলেও সা¤প্রতিককালে দেশের জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে আবহমান বাংলার প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে দেখা দিয়েছে পরিবর্তন। তারতম্য দেখা দিয়েছে খনার এই বিখ্যাত বচনে। এখন আর মাঘ মাসেই আম গাছে মুকুল ধরে না। কোন বছর আগাম পৌষ মাসেই মুকুল দেখা দেয়। আবার কোন বছর ফাগুনের প্রথম দিকে দেখা দেয় মুকুল। এ বছর আমের ফলনে ব্যাপক বিলম্ব দেখা দিয়েছে। নরসিংদীসহ দেশের কোন স্থানেই মাঘ মাসের সঠিক সময়ে মুকুল ধরেনি। কোথাও মুকুল ফুটেছে ফাগুনের প্রথমে আবার কোথাও ফাগুনের মধ্যভাগে। যার ফলে এবারের ফাগুনে গাছে গাছে আমের গুটি খুব একটা নজরে আসছে না। আমের গুটি বাঙ্গালী শিশু-কিশোরদের খুবই প্রিয়। বাঙ্গালীর শিল্প সাহিত্যের আমের মুকুল আমের গুটি ও পাকা আম নিয়ে রচিত হয়েছে ব্যাপক গান, গল্প, কবিতা। ফাগুন মাসে গাছে গাছে ব্যাপক সংখ্যক আমের গুটি ধরতো। ফাগুনের শেষে গাছেল নিচে ঝড়ে পরতো প্রচুর আমের গুটি। গ্রামের শিশু-কিশোররা সেব গুটি কুড়িয়ে নিয়ে মজা করে খেতো। দুষ্ট কিশোররা গাছ থেকে ঢিলিয়ে গুটি পেড়ে তা লবন দিয়ে খেতে আনন্দ বোধ করতো। আমের গুটি মুঠিখানেক বড় হলে তা গাছ থেকে পেড়ে ঝিনুক দিয়ে ছিলিয়ে খেতো। কোন কোন শিশু-কিশোররা বাঁশের ধারালো ‘লেইল’ দিয়ে আমের ছিলকা ছিলিয়ে লবন, মরিচ দিয়ে কাঁচা আমের ভর্তা করে খেতো। আজ আর সেই দিন নেই। শিশু কিশোররা গাছের নিচে গিয়ে হুতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। গাছের নিচে এখনো শিশু-কিশোরদের কোলাহল নেই। নদ-নদীগুলো দুষণের কারনে ঝিনুকের বংশ নির্বংশ হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে হাজার হাজার বাঁশের ঝাড়। এছাড়া গাছ থেকে আমের গুটি কুড়ানো তো দূরের কথা গাছের তলায়ও যেতে পারে না শিশু-কিশোররা। আর গাছ থেকে ঢিল দিয়ে আম পাড়লে শিশু-কিশোরদের ঘাড়ে চাপে আম চুরির বদনাম। এখন আর গাছের শাখে আম ধরে মাটিতে নূইয়ে পড়ে না। এ বছর আমের ফলনে বিলম্ব দেখা দেয়ায় ফাগুনের শেষেও গাছে আমের গুটি দেখা যাচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার ফাগুনের শেষ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমের গুটি এখনো খাবার উপযুক্ত হয়নি। প্রকৃতি যেন এক নিথর পাথরে পরিনত হয়ে গেছে।




