ads

মঙ্গলবার , ১১ মার্চ ২০১৪ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাণীনগরে বিলের পানি নিষ্কাষণের মুখে ক্রস ড্যাম : জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশংকায় আতংকিত কৃষকরা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মার্চ ১১, ২০১৪ ২:৩০ অপরাহ্ণ

Naogaon Cros dam jomi jolaboddha hobe 8.3.14নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার রক্তদহ বিলের পানি নিষ্কাষণের একমাত্র পথে ‘হাতিরপুল’ নামক স্থানে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ক্রস ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়ায় এলাকার হাজার হাজার সাধারন কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কৃষক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন এটি নির্মাণ করা হলে পানি নিষ্কাষণ হতে না পেরে পানি জমে হয়ে বিলের তলায় প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমিসহ আশেপাশের এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমির ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে এলাকায় এক ফসল উৎপাদিত ধান উৎপাদন করতে না পেরে এলাকায় দুর্ভীক্ষ দেখা দিবে বলে আশংকা তাদের। কৃষকদের বাঁচাতে তারা ক্রস ড্যাম নির্মাণ না করার জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Shamol Bangla Ads

বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার কৃষক, মৎস্যজীবী যারা বসবাস করছেন তাদের সুবিধার্থেই ড্যামটি নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিলের যেখানে নির্মাণ হাতে নেয়া হয়েছে সেখানকার মাটির চেয়েও তিন ফিট নিচে এটি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিলে খরা মৌসুমেও পানি জমে থাকবে। জমে থাকা পানির স্তর মাটির সামান্য নিচে বসে যাবে। তাতে চৈত্র মাসে এলাকার দশ হাজার হেক্টর জমিতে স্থাপিত শতশত গভীর ও অগভীর নলকূপের সেচ কাজে পানির সমস্য হবে না। এ ছাড়াও মৎস্যজীবীরা অতিরিক্ত দুই-তিন মাস বেশি সময় ধরে মাছ ধরতে পারবে। কৃষকদের সুবিধার্থে ড্যামে তিনটি ভাল্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও যদি কখনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তখন ভাল্ব দিয়ে পানি বের করে দেয়া যাবে।
নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার মাঝ খানে রক্তদহ বিল অবস্থিত। এ বিলে নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার ২২ টি ক্যানেল দিয়ে আসে পানি। বিল থেকে একটি মাত্র ক্যানেল পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় বর্ষাকালের সব কয়টি মাসই পানিতে তলিয়ে (ডুবে) থাকে। তখন ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করায় বিলে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এ বিল অঞ্চলের একটি মাত্র ফসল ইরি-বোর ধান। সেই ধান চাষ করেই এলাকাবাসি জীবন ধারণ করেন।
বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৩/১৪ অর্থ বছরে ক্রস ড্যাম নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নেয় এবং এটি নির্মাণে দরপত্র আহবান করলে নওগাঁ শহরের এশিয়া ক্লিনিক নামক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি হাতে পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্যামটি নির্মাণের জন্য মাস খানেক আগে ঠিকাদার তার শ্রমিক দিয়ে খনন করে ক্যানেলের মুখ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় যখন কাজ চলছিল তখন হঠাৎ করে সামান্য বৃষ্টি হয়। ক্যানেলগুলো দিয়ে বয়ে আসা পানি জমে বিলের তলায় প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে লাগানো ইরি-বোর ধান ডুবে যায়। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার কৃষক।
বগুড়া জেলার আদমদিঘী সদরের আমিনুল আলম, রাণীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, এখনো বিলের অনেক ধানি জমি পানিতে ডুবে আছে। দেখলে বোঝা যাবে না এখন খড়া মৌসুম নাকি বর্ষা মৌসুম। এটি নির্মাণ করা হলে পানি নিষ্কাষণে বাধাগ্রস্থ হবে। সামান্য বৃষ্টিতে চৈত্র মাসেও বিলে পানিতে ডুবে থাকবে। এতে বাড়ি-ঘরও রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এ দিকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁয় ধান উৎপাদনে ব্যবহত হবে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তারা। হাজার হাজার কৃষক বেকার হয়ে যাবে। তাতে তাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার উপক্রম হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহম্মদ আলী জানান, ১৯৮৭ সালে একটি বন্যার সময় ১১ টি সেতু দিয়ে পানি নিষ্কাষণ হওয়ার পরও এ এলাকার শতশত বাড়ি-ঘর রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন সড়ক কেটে দিয়ে ঘড়বাড়ি রক্ষা হয়। এখনতো সেই ক্যানেল নাই। অধিকাংশ সেতু বন্ধ হয়ে গেছে। ড্যামটি নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে উঁচু অঞ্চলের আরো প্রায় ২৫ গ্রামের ৫ থেকে ৭ হাজার একর জমিসহ ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমির ধান বর্ষকালে ডুবে যাবে যাওয়া আশংখা প্রকাশ করেন তিনি এতে ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি।
রাণীনগর উপজেলার রাজাপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি প্রফুল­ চন্দ্র জানান, ড্যাম নির্মাণ সম্পন্ন হলে এলাকার ১২টি গ্রামের মৎস্যজীবীরা বর্ষা মৌসুমে নৌকা পাড়াপাড় করতে পারবেন না। এতে তারা মাছ ধরতে না পারলে তাদের অসুবিধার মধ্যে থাকতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাহারুল ইসলাম জানান, চৈত্র মাসেও এক দিনের সামান্য বৃষ্টিতে হাজার-হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে ড্যামের কারণে উঁচু অঞ্চলের জমিগুলোতেও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কৃষকদের স্বার্থে দেখার দাবি জানান তিনি।
বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাণীনগর-জোনের সহকারী প্রকৌশলী তিতুমীর রহমান জানান, পানির স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে এটি নির্মাণের ফলে বিলে পানি জমে থাকবে। এতে পানির স্তর মাটির সামান্য নিচে থাকবে। চৈত্র মাসেও এলাকার দশ হাজার হেক্টর জমির স্থাপতি শতশত গভীর ও অগভীর নলক’পের সেচ কাজে পানির তাতে সমস্য হবে না। এ ছাড়াও মৎস্যজীবীরা অতিরিক্ত দুই-তিন মাস বেশি সময় ধরে মাছ ধরতে পারবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা হয়েছে। যার কারণে এটি নির্মাণে বাধা দিচ্ছে। তবে তাদের সাথে আলোচনা করে এটি নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে বলে ও সাংবাদিকদের জানালেন এ কর্মকর্তা।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!