মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো রোপন করেছেন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে এখানে ২৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের মধ্যেও কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকে পড়েন বোরো রোপনে। এবার কৃষকরা অন্যান্য বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে বোরো রোপন করেন। বিগত কয়েক বছরের বোরো চাষের সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৪০ হেক্টর। রোপিত বোরো থেকে কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখলেও তাতে এখন প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সমস্যা। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারলে এসব বোরো ক্ষেত থেকে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বোরোর বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজ চাদরে ঢেকে আছে। বোরোক্ষেতে এখন চলছে পরিচর্যার কাজ। ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা শেষ পর্যন্ত কাংখিত জমিতে বোরো রোপন করতে পারলেও তারা পুরো শংকামুক্ত হতে পারছেননা জমিগুলোতে প্রয়োজনীয় সেচ প্রদানের ক্ষেত্রে। সবুজ বর্ণ ধারণ করা এসব বোরোক্ষেতে পানি সেচের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা না গেলে তীরে এসে তরী ডুবার যোগার হবে বলে বোরোচাষী কৃষকরা জানান। ব্যয়বহুল এ ফসল আবাদের জন্য কৃষকরা পরিবারের ঘটিবাটি বিক্রি থেকে শুরু করে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ-মহাজন করে থাকেন। শস্যভান্ডারখ্যাত মহাদেবপুরে যে পরিমাণ বোরোধান উৎপন্ন হয় সেই ধান খাদ্যের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও আরো বিপুল পরিমাণ রাজধানীসহ সারাদেশের চাহিদার অনেকখানিই পূরণ করে থাকে। বোরো রোপনের পর খালি হাতে পরিণত হওয়া এসব কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষা এবং স্থানীয় খাদ্য চাহিদাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের প্রয়োজন পূরণের স্বার্থেই এ মুহুর্ত থেকে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত এ এলাকায় বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরী বলে সচেতন মহল মনে করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার রেকর্ড পরিমাণ ২৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে চাষাবাদকৃত ওই পরিমাণ জমি থেকে ২ লক্ষাধিক মেঃটন ধান উৎপন্ন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।




