দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : দেবিদ্বারে হিন্দু সম্প্রদায়ের সেবাশ্রমে পেট্রোল বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়। একই দিন বেলা ২টা পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ‘দেবিদ্বার কালী মন্দির’ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করে। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি দেবিদ্বার নিউমার্কেট ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে’ এসে ‘কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক’ অবরোধ করে সমাবেশ করে। প্রায় ঘন্টাব্যপী সড়ক অবরোধ চলাকালে সড়কের দু’পাশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়লে যাত্রীরা দূর্ভোগের শিকার হয়। সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন ও দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা প্রতিরোধের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। অপর দিকে গত ২৭ফেব্রæয়ারী রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের কর্তৃক দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ প্রতিপক্ষের সমর্থকদের দোকান-পাটে ব্যপক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় বেলা ২টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মঘট পালন করে।
সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুরের সময় প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচন শেষে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারনেই দুস্কৃতিকারীরা পরদিন (শুক্রবার) দেবিদ্বার সেবাশ্রমে পেট্রোল বোমা হামলা করার সাহস পেয়েছে। পেট্রোল বোমা হামলার দিন রাতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দোষি ব্যক্তিদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলেও গত পাঁচ দিনেও আমরা কোন বিচার পাইনি। প্রতিবাদকারীরা আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সকল ধর্মের লোকদের নিয়ে ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ক রেখে বসবাস করতে চাই। নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় বিমাতাসূলভ আচরণে আমরা বরাবরই নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছি। আমরা কারোর করুনা নিয়ে বাচঁতে চাইনা, আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিকাধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। আমরা আর হামলা-নির্যাতনের শিকার হতে চাইনা।
প্রতিবাদ সমাবেশে ‘বাংলাদেশ সেবাশ্রম’ দেবিদ্বার শাখার আহবায়ক দেবব্রতধর পিন্টুর সঞ্চালনায় দেবিদ্বার উপজেলা পূঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ’র সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দেবিদ্বার উপজেলা পূঁজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র দাস, নারায়ন বর্মণ, যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব পাল, প্রধান উপদেষ্টা অমর চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ সেবাশ্রম দেবীদ্বার উপজেলা শাখার উপদেষ্টা পিন্টু ধর, সভাপতি সুনীল চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক রিপন দত্ত, ‘বাংলাদেশ সেবাশ্রম’ দেবিদ্বার শাখার সাধারন সম্পাদক ডাঃ প্রদীপ কুমার দে, সহ-সম্পাদক গনেশ দত্ত, সুকেশ সরকার, সঞ্জিত দে, রবীন্দ্র ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা সুধাংসু সাহা, সূনীল চন্দ্র দত্ত প্রমুখ। এসময় তাদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে ঊক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা সংস্থার সভাপতি শিরিন সুলতানা।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের ‘দেবিদ্বার সেবাশ্রম প্রার্থনালয়’ এর সেবায়েত সঞ্জয় দেবনাথ’র টিনশেড ঘরে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বত্তরা। ওই আগুন নেভানোর সময় সঞ্জয় দেবনাথের স্ত্রী শোভা রানী দেবনাথ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান বলেন, দোকান-পাট ভাংচুর ও সেবাশ্রমে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সেবাশ্রমে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সূনীল চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, ওই মামলায় একজন সন্ধিগ্ধ আসামী গ্রেফতার পূর্বক কোর্ট হাজতে চালান করেছি। গ্রেফতার অভিযান অবাহত আছে।




