ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি: তফসীল ঘোষনার তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোলাহাট উপজেলার সর্বস্তরে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার-প্রচারনা। হোটেল-রেস্তোরা, ছোট ছোট বাজার গুলোতে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে ভোটারদের মাঝে আর প্রার্থীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাতায়াতের মধ্যে ভোট ও দোয়া প্রার্থনার আসর। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯ দল অংশ না নিলে ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছিলো নানা ধরণের গুঞ্জণ ও ভোট প্রয়োগ করতে না পারার তীব্র নিন্দা এবং বঞ্চিতের ঝড়। এবার আর সেই ভুলটি করেননি তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। আর সে সুবাদে উপজেলার তৃনমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সারাদেশ ব্যাপি দেখা গেছে জনগণের মাঝে ভোট দেয়ার উৎসাহ আর উদ্দীপনা। তফসীল ঘোষনা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলাসহ ৮৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ১৫ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সবচেয়ে কনিষ্ঠ ভোলাহাট উপজেলা ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার মোট ভোটারের সংখ্যা ৬৬ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৮ জন ও মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৯’শ ৬৬ জন। উপজেলার প্রধান দু’দলের মধ্যে আওয়ামীলীগ থেকে রয়েছে একক প্রার্থী আর বিএনপি’র নানা দ্বিধাদন্ধের মধ্যে কোন প্রকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে তাদের ৩ জন সহ স্বতন্ত্র ২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের একান্ত প্রচেষ্ঠায় আ’লীগের একক প্রার্থী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ’লীগের সহসভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আশরাফুল হক চুনু ডাক্তার তার কাপপিরিচ প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নৌকার হাল ধরেছেন। আর ১৯ দলের মাঝে ৩ জন প্রার্থী হওয়ায় তাদের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান বাবর আলী বিশ্বাস দোয়াত-কলম, উপজেলা বিএনপি’র সহসভাপতি বলিষ্ঠ নেতা প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার চিংড়ী মাছ ও সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে জেল-হাজতে) মোজাম্মেল হক চুটু মটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আদা-জল খেয়ে নেমেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ইউপি সফল চেয়ারম্যান যাকে অনেকে ভ্যান চেয়ারম্যান নামে চিনে এবং জানে তিনি আব্দুর রশিদ ঘোড়া প্রতীকে ভোটযুদ্ধে দৌড় দিবেন ও আব্দুল মতিন আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে এলাকাবাসী বলছে, আব্দুল মতিন স্বতন্ত্র, আ’লীগ নাকি বিএনপি? এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে দ্বিধাদন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার অনেকেই বলছে, আব্দুল মতিন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন আ’লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আতাউর রহমান রজব টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ভোটারদের জল খাবার প্রতিজ্ঞায় এবং ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ লোকমান আলী চশমা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দু’জোট ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীদের মধ্যে মোট ৮ জন লড়াই শুরু করেছেন। এদের মধ্যে আ’লীগ সমর্থিত সিনিয়ার সাংবাদিক মইনুল ইসলামের সহধর্মীনি সুরাইয়া বেগম ডলি প্রজাপতি মার্কা নিয়ে ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। আর ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থী প্রয়াত উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা রেশমাতুল আরস রেখা ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, অলি-গলি চোষে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়াও বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে খাইরুন্নাহার বেগম বৈদ্যুতিক ফ্যান, আফরোজা বেগম সেলাই মেশিন, রমেসা বেগম হাঁস, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া কলস প্রতীক নিয়ে ভোটনদীতে সাঁতার দেয়া শুরু করেছেন, সামসুন্নাহার বেগম ফুলের টব প্রতীক পেয়েও ভোট করবে না বলে তিনি জানান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্যা কোহিনূর বেগম পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে গ্রামে-গঞ্জের মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শেষে কে হবেন ভোলাহাটের পাঁ ফাটা মানুষ গুলোর অভিভাবক তা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ভোটারদের।
একক প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আশরাফুল হক চুনুর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও সর্বোপরি আমার উপজেলার সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের পাশে ছিলাম আছি থাকবো যতদিন আলাহ আমাকে হায়াতে বাঁচায় ইনশালাহ্।
অপরদিকে ১৯ দল সমর্তিত প্রার্থী প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সারাদেশ ব্যাপি আ’লীগের অপরাজনীতিতে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর এ পরিস্থিতিতে আমাকে উপজেলার মানুষ নির্বাচিত করলে আপামর মেহনতি মানুষের সার্বিক কাজে সাহায্য-সহানুভূতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের স্বার্থে নিঃশর্ত ভাবে কাজ করে যাবো।
ওদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান বাবর আলী বিশ্বাস বাচ্চুর কথা বললে তিনি জানান, আমার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতি ডামাডোল হওয়ায় উন্নয়নের ইচ্ছা থাকলেও তা করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টিয়ে গেছে এবং আমার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে সকলের পাশে থেকে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।
তবে যে যাই বলুক না কেন সকলেরই একটাই চাওয়া প্রার্থীকে হতে হবে একজন সৎ-নিষ্ঠাবান, যোগ্য, ধর্মপরায়ণ সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আশা-আকাংখার প্রতীক। আর সেই প্রতীকটি কে নিয়ে আসছে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সকলকে। #

ছবিক্যাপশন:
চেয়ারম্যান পদে-১। ডাঃ আশরাফুল হক চুনু (আ’লীগ) ২। প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার (বিএনপি), ৩। মোজাম্মেল হক চুটু (বিএনপি), ৪। বাবর আলী বিশ্বাস বাচ্চু (বিএনপি), ৫। আব্দুর রশিদ (স্বতন্ত্র)।
ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ)-৬। আতাউর রহমান রজব (আ’লীগ) ও ৭। ডাাঃ লোকমান আলী (জামায়াত)।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা)-৮। সুরাইয়া বেগম ডলি (আ’লীগ), ৯। রেশমাতুল আরস রেখা (বিএনপি), ১০। সুলতানা রাজিয়া (বিএনপি), ১১। কোহিনূর বেগম (স্বতন্ত্র), ১২। খাইরুন্নেসা বেগম (বিএনপি) ও ১৩। আফরোজা বেগম জোসনা (বিএনপি)।




