মো. আমির হোসেন আমু, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) : আসন্ন দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে আ’লীগের এবিএম গোলাম মোস্তফা ও ফখরুল মুন্সী গ্রুপের নেতাকর্মীরা অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনে আ’লীগ থেকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঘোষণা না করায় দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন দু’টানায়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত দলের তৃণমুল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত দফায় দফায় সমঝোতার চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। তাই আগামী ২৭ ফেব্রয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন বলে দলের ক্ষুব্ধ তৃণমুল আশাবাদী।

জানা যায়, উপজেলা আ’লীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে সাবেক সাংসদ এবিএম গোলাম মোস্তফা ঢাকায় বসেই একেএম সফিকুল আলম কামাল কে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেন। অপর দিকে দলের তৃণমুলের বৃহৎ একটি অংশের মতামত নিয়ে ফখরুল মুন্সীর ভাই ও বর্তমান সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের চাচা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এএফএম তারেক মুন্সীকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা দেয়া হয়। মুন্সী পরিবারের সন্তান হিসেবে ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তারেক মুন্সী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দলের তৃণমুল নেতাকর্মীদের অভিমত। অপরদিকে এ উপজলায় বিএনপি জামায়াত শেষ মুহুর্তে জোটগত অবস্থান নিলেও সাবেক সাংসদ মঞ্জু মুন্সীর অতীতের নেতিবাচক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ দলের একটি বৃহৎ অংশ দলের বাইরে অবস্থান নেয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর ভরাডুবির আশংকা করছেন অনেকেই। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ দলের সভানেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক তৃণমূলের মতামত না নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্র্থীতা ঘোষণা করে তৃণমুলের তোপের মুখে পড়েছেন সাবেক সাংসদ এবিএম গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা আ’লীগের একাংশের নেতারা। দলীয় সূত্র জানায়, এদিকে দলের দু’ প্রার্থীর বিষয়ে ঢাকায় সমঝোতার জন্য জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এবং পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একাধিকবার বৈঠক করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দু’প্রার্থীর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল খান জানান, আমরা সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছি, এখন সিদ্ধান্ত দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই একমাত্র ভরসা। দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী জানান, দলের সভানেত্রী ও প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা না মেনে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে জনসমর্থনহীন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা আ’লীগের তৃণমুলের মতামত না নিয়ে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন, তারা দলের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনে বিএনপি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।




