জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে। এসব প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারনা চালানো অব্যাহত রেখেছে। যতই দিন যাচ্ছে বৃহৎ দু’দলের নেতা-কর্মী সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্তি হচ্ছে। জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সচেতন মহলের আশংকা নির্বাচনের দিনক্ষন যতই কাছে আসবে ততই সংঘাতের দিকে পরিস্থিতি মোড় নিতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচন পরিবর্তি সহিংসতা অব্যাহত থাকার স¤ম্ভাবনাকে উড়িয় দেয়া যায় না। প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা একে অপরকে বলছেন তোর মনোনয়ন ভূয়া। দলীয় কোন্দলের মধ্যদিয়েই নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি নিয়েই মানুষ হিসেব নিকেস করছেন। এনিয়ে দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হাইকমান্ড জামালপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভোলা মল্লিককে সমর্থন দেয়। এ সমর্থনকে তোয়াক্কা না করে জেলা বিএনপি মিলকে মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দু’ ভাগে বিভক্ত হয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দু’জন প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন একজন প্রার্থী। দলীয় সমর্থন না পেলেও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ নির্বাচনের মাঠে থাকবেন বলে জানা গেছে।

জামালপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই, বিএনপির দুই ও বিজেপির একজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজনকুমার চন্দ (দোয়াত-কলম), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্য আব্দুল হামিদ (ঘোড়া), জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভোলা মল্লিক (কাপ-পিরিচ), সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন মিলন (আনারস) এবং বিজেপি নেতা কাজী নজরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল)। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা এম খলিলুর রহমান (তালা), জেলা ওলামা দলের সভাপতি কাজী মশিউর রহমান (উড়োজাহাজ) ও মুকুল তালুকদার (টিয়াপাখি)। াইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে মহিলা লীগ নেত্রী ফেরদৌসি বেগম (হাঁস) ও মহিলা দল নেত্রী শেলীনা বেগম (কলস) প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
সরিষাবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন পাঠান (দোয়াত-কলম) ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন আব্দুল হাই (টিউবওয়েল), জহুরুল ইসলাম (তালা), ফতেহ লোহানী (উড়োজাহাজ) ও মামুনুর রশীদ ফকির (চশমা)। ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন শরিফা ইয়াসমীন (হাঁস), বেগম জহুরা লতিফ (ফুটবল), জাহানারা হাবীব (প্রজাপতি) ও হুসনেআরা আসমা (কলস)।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর চেয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এগিয়ে বলে ভোটাররা জানান। দ্বিতীয়পর্যায়ে জামালপুরের মেলান্দহ, ইসলামপুর ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়াম্যান পদে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। দলীয় সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নিজ নিজ হাইকমান্ডের সাথে লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই সাথে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী হাওয়ায় এ তিন উপজেলায় ভোটারদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী আলোচনায় চায়ের দোকান ও বিভিন্ন মোড় এখন সরগরম।
মেলান্দহ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির একজন, জাতীয় পার্টির একজনসহ মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফারহান জাহেদি সফেন (আ’লীগ), হাবিবুর রহমান চাঁন (আ’লীগ), গোলাম হাফিজ নাহিন (বিএনপি), রবিউল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), অ্যাডভোকেট ইসমত পাশা বহিস্কৃত আ’লীগ (স্বতন্ত্র), আব্দুল কাদের জিলানী (আ’লীগ) ও মঞ্জুরুল ইসলাম কাদের (আ’লীগ)। এ দিকে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে নয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
ইসলামপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির দুইজন ও জামায়াতের একজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন জিয়াউল হক জিয়া (আ’লীগ), মাকছুদুর রহামান আনছারী (বিএনপি-সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম গ্রæফ), নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল (বিএনপি-সাবেক এমপি আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু প্রæফ) এবং অধ্যাপক মাওলানা খলিলুর রহমান (জামায়াত)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। এ দিকে চেয়ারম্যান পদে ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমান আনছারী দলীয় সমর্থন পেয়েছেন বলে দাবি করলেও এতে নানা বির্তক দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এ, কে, এম মোশাররফ হোসেনের স্বাক্ষরিত ৩ ফেব্রুয়ারি এক দলীয় মনোনয়ন পত্রে মাকছুদুর রহমান আনছারী কে দলীয় একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ খবর একই দলের অন্য প্রার্থী নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবুকে জানালে এ নিয়ে নানা বির্তক দেখা দেয়। সাবেক এমপি আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু এ বিয়য়ে জানান, ‘আমি ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করলে তিনি আমার মনোনিত দলীয় প্রার্থী নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুলকে দলীয় একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেন। সেকারণে আমি রোববার ইসলামপুরে গিয়ে স্থানীয় জনতা মাঠে এক কর্মী সভায় নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুলকে একক প্রার্থী হিসাবে করেছি।’
অপরদিকে এ, কে, এম মোশাররফ হোসেনের স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত মাকছুদুর রহমান আনছারী জানান, ‘আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বলেই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। মনোনয়নপত্র আমার হাতে রয়েছে’।
জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একজন, বিএনপির দুইজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আবু জাফর (আ’লীগ), বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার (বিএনপি), মানিক সওদাগর (বিএনপি) ও এমদাদুল হক সরকার (স্বতন্ত্র)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
উল্লেখ্য, ১১ ফেব্রুয়ারি এ তিন উপজেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি।




