জিয়াউর রহমান ,রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) : …. ভাই ঘুমাইছেন নাকি ? ও ভাই, একটু উঠেন।’ এভাবেই প্রার্থীদের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায় ভোটারদের। এক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলা শেষ করে সাধারণ ভোটরা যখন দু’চোখ বন্ধ করার চেষ্টা করে ঠিক সেই মুহুর্তে আরেক প্রার্থীর ডাক। রাতের বেলায় প্রার্থীদের এ ভোট প্রার্থনায় এলাকার ঘুম এখন হারাম হয়ে গেছে। বিশেষ করে দু’হাতের ওপর জীবিকা নির্বাহ করা দিনমজুর মানুষ গুলো পড়েছে সমস্যায়। রাতে প্রার্থীদের জ্বালায় ঘুম না হওয়ার কারনে মাঠে কাজ করতে গিয়ে খুবই সমস্যা হচ্ছে বলে দিনমজুররা জানিয়েছেন।

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরিক্ষত মহিলা ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা দিনের বেলায় ছুটছেন হাটবাজার ও জন সমাগম এলাকায়। আর রাতের বেলায় বেছে নেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনায়। প্রার্থীরা জানান, রাতের বেলায় ভোট চাওয়া খুব সহজ হয়। সে সময় চারপাশে নিরব থাকে। ভোটারদের কাছেও মন খুলে দু’একটা কথা বলা যায়। তাছাড়া ভোটারদের মনেও থাকে প্রার্থীদের কথা।
দ্বিতীয় দফা তফসিল অনুযায়ী কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা নির্বাচন আগামি ২৭ ফেব্রæয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে মনোনয়ন পত্র জমা ও যাছাবাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বাকী রয়েছে প্রতীক বরাদ্দের। প্রতীক বরাদ্দ না হলেও প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন অনেক আগেই। প্রার্থীদের তৎপরতায় জমে উঠছে নির্বাচন। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সর্বত্র আলোচনায় চলছে কে জিতবে। কোন এলাকায় কোন প্রার্থীর ভোট বেশি।

এবার রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরা হলেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, বহিস্কৃত আ’লীগ নেতা অধ্যাপক সবুর ফারুকী, উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, উপজেলা যুবদল সভাপতি কেএম ওসমান গনি, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল লতিফ, জাতীয় পার্টির আব্দুল বারী সরকার। আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ সব দলের প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী জ্বরে ভুগছে উপজেলার সর্ব শ্রেণীর মানুষ। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো এবার নির্বাচন করছেন না।
অপরদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বন্ধিতায় নেমেছেন বিএনপি’র হাফিজা বেগম, পারুল আক্তার, আ’লীগের রেনু বেগম, জাতীয় পার্টির বিলকিস বেগম ও জায়েদা আমিন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম, আ’লীগের হোসেল রানা ও আব্দুল মান্নান।
চররাজীবপুর গ্রামের ভোটার সাবের আলী বলেন, ‘হারা আইত ঘুমাবার পাই না। একবার এ-আইয়া ডাহে, আরেক বার ও-আইসে। এবা হইরা ঘুম ধরে না।’ জাউনিয়ার চরের দিনমজুর শহর আলী বলেন, ‘আইতের বেলা প্রার্থীদের জ্বালায় ঘুম অয় না। আবার দিনের বেলায় কামলা দিবার যাইয়া ঘুম ধরে।’ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রার্থীরা ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দিচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কথাও বলছে।
অন্যান্য বারের তুলনায় এবার প্রায় সব প্রার্থী শিক্ষিত। আ’লীগের একক প্রার্থী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের আ’লীগ নেতাকর্মী সমর্থকরা আমার জন্য মাঠে কাজ করলে আমি জয়ী হবো।’ একই ধরণের কথা বলেন বিএনপি’র প্রার্থী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানসহ সকল প্রার্থী।




