ads

সোমবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রাজিবপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ : ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪ ২:০১ অপরাহ্ণ

Rape-7জিয়াউর রহমান জিয়া, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) : এক নিরীহ দিনমজুরের কন্যা স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না ধর্ষকের পরিবার। ধর্ষণ করার সময় ধর্ষকের মোবাইলফোন মেয়ের কাছে জমা দিলেও পরে ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নরিজা বেগম নিজে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। দুইদিন মেয়েটিকে মেম্বারের বাড়িতে রাখার পর কৌশলে মোবাইলফোনটি জমা নিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ওই এলাকার চেয়ারম্যান বিচারের দায়িত্ব নেন। ২ দিন ঘোরানোর পর তিনিও সটকে পড়েন। এভাবে দ¦ারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ধর্ষিতার পরিবার। এমন পৈচাশিক ঘটনাটি ঘটেছে, রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাইকেন্ডারী গ্রামে।

Shamol Bangla Ads

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাইকেনটারী এলাকার দিনমজুর পরিবারের কন্যা কোদালকাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই একই গ্রামের আবু বক্করের লম্পট পুত্র রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। ধর্ষিত স্কুল ছাত্রী জানান, আমার বাড়ির দক্ষিণ পাশে খোলা জায়গায় ধান শুকানোর জন্য একটি মাঠের কোনায় পরিস্কার জায়গা করা হয়েছে। গ্রামের যাদের বাড়িতে রোদ লাগে না তারা সেখানে ধান শুকায়। আমি গত শনিবার (২৫ জানু) ওই ধান শুকানো মাঠে ধান শুকাচ্ছিলাম। ওই খোলার নিকটে একটি ঘরও আছে, বিকেলে ওই ঘরে ধান রাখতে গেলে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা রিপন মিয়া আমার মুখ চেপে ধরে ঘরের দরজা দিয়ে জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। আমি চিৎকার করতে চাইলে মুখের মধ্যে গামছা ডুকিয়ে আওয়াজ বন্ধ করে দেয়। পরে টানাহেচরা করতে করতে আমার মা সেখানে উপস্থিত হয়। মা বিষয়টি বুঝতে পারলে তার চিৎকারে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়া, মোক্তার আলী, জামিরন নেছা এগিয়ে আসলে রিপনকে ওই এলাকার ১/২/৩ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার নুরিজা বেগমের হেফাজতে দেয়।
নুরিজা বেগম ছেলে-মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে কৌশলে ছেলের মোবাইলফোন উদ্ধার করে মেয়েটিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জদ্দার বিচারের দায়িত্ব নেন। তিনি ৪ দিন অপেক্ষা করে থানায় আশ্রয় নিতে বলেন। এক পর্যায়ে থানায় আসার পথে ওই এলাকার ইউপি সদস্য নুরুল আমিন মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
সরজমিনে সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় আ: আউয়াল (৫৫) এর সাথে, তিনি জানান, ঘটনাটি হুনছি সত্যি, কিন্তু গরীব বইলা কেউ বিচার দেয় না। আরেক মুরুব্বী নইমউদ্দিন (৬০) জানান, আমরা ভয়ে কইবার পারি না। মেয়েডার বাপ কামলা দিয়া খায় তাই বিচার অয় না। ওই গ্রামের নস্কর আলী জানান, নদীতে বাড়িঘর ভেঙে যাবার পর বেশি সময় মেয়ের বাবা ঢাকায় দিনমজুরী করে, এখনও সে ঢাকায় আছে দিনমজুরীর কাজে। দিনমজুরী কইরা মেয়েডারে স্কুলে পড়াইতেছিল। এই লম্পট রিপনের জন্য মেয়েডার রেখাপড়া অইল না। লজ্জায় মেয়েডা ঘরের বাইরে বাড়ায় না।
মেয়ের মা সাহেরভানু বেগম বলেন, আমার স্বামী বাড়ি নাই। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতাছি কেউ বিচার দেয় না। অহন রিপনের লোকজন আমাগরে বাড়িত থিকা বাইরে যাবার দেয়না। মেয়েডা ঘরের মধ্যে সব সময় থাহে। ওক একলা থুইয়া কোন জায়গায় যাবারও পারি না। খালি কানদে কোন কিছু খায় না। কহন যে, গলায় দড়ি দিয়া মইরা যাব আল্লায় জানে। এভয়ে আমি আজ ৮ দিন থিকা রাতে ঘুমাইতেও পারি না। বাবা আমরা গরীব, আমাগো বিচার কেউ দেয় না। স্কুলে পড়াইয়া বড় ঘরে বিয়া দিবার চাইছে ওর বাপে, আর অহন স্কুলও গেল, আমার সব শেষ অইয়া গেল। এই বলে অঝরে কাঁদতে থাকে।
এ বিষয়ে কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, আমি অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। রিপনের লোকজন আমার কথা মানে না। ঘটনা প্রসংগে রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!