নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা মির্জাপুর বাজারে যত্রতত্র আশংকাজনকহারে গড়ে উঠেছে নসিমন, করিমন, আলমসাধুর অবৈধ কারখানা। প্রশাসনিক কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ কারখানায় নসিমন, করিমন তৈরীর রমরমা ব্যবসা। মির্জাপুর বাজারের কিছু চিহ্নিত অসাধূ ব্যবসায়ীরা অবৈধ নসিমন, করিমন কারখানার মালিক হয়ে রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক বনে গেছে। মির্জাপুর বাজারের প্রায় ২শ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ১২টি এই মরণযান তৈরীর কারখানা। পুলিশ প্রশাসন দেখলেও না দেখার ভান করে থাকেন। প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই অবৈধ কারখানাগুলো নিয়ে। এসব কারখানা ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সিলগালা করে দিলেও বেশীদিন স্থায়ীত্ব হয় না। কিছুদিন পরে প্রশাসন কে ম্যানেজ করে আবার দেদারছে তাদের কারখানায় অবৈধযান তৈরীর রামরাজত্ব কায়েম করে। এসব কারখানার নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি, বিদ্যুতের সঠিক সংযোগ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,তালা খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মির্জাপুর বাজারের দু’ধারে আব্দুল লতিফ, গণি মেম্বার, রেজাউল ইসলাম, মশিয়ার রহমান, মদন, হায়দার আলী, পবিত্র কুমার, কামরুল ইসলাম, আহাদ আলী, রাজু আহম্মেদ, মশিউর রহমান গড়ে তুলেছে ছোট-বড় ১২টি অবৈধ মরণযান তৈরীর কারখানা। এসব কারখানার ওয়ার্কশপ গুলোয় শিশু শ্রমিক দ্বারা সরকারের কোন অনুমতি ছাড়াই দিনরাত অবৈধ ইঞ্জিনভ্যান তৈরীর কাজ করে চলেছে। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে আইনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ওয়েলল্ডিং ঝালাই এবং ব্যাপক শব্দ দুষনে পরিবেশ নষ্ট করছে।
এ প্রতিবেদকের সাথে কারখানার এক শ্রমিক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানায়, আমরা সপ্তায় ২০/ ২৫টা এবং মাসে ২ থেকে ৩ শত ইঞ্জিন ভ্যান বানিয়ে থাকি। মালিকরা প্রশাসনিক কিছু কর্মর্তাদের ম্যানেজ করে দাম্ভিকতার সাথে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একটা ইঞ্জিন ভ্যান তৈরী করলে খরচ-খরচা বাদে প্রায় ১০ হাজার টাকা থাকে মালিক পক্ষের। এদিকে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের নাকের ডোগায় সরকারের অনুমতি ছাড়ায় এ সব অবৈধ নছিমন, করিমন, পাগলা ঘন্টা, ইঞ্জিন ভ্যান তৈরী হলেও প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এসব অবৈধ যান তৈরী শেষে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে তো চলছে মনের আনন্দে ৮/৯ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট চওড়া নসিমন, করিমন, আলমসাধু রাস্তার বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে। ফলে দুরপাল¬ার বাস, লোকাল বাস ও অন্যান্য যানবাহন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অকালে প্রান হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। প্রতিনিয়ত যেসব সড়কে দূর্ঘটনা ঘটছে তার সিংহভাগ ইঞ্জিনচালিত এই মরন দানবের কারনে। এ দূর্ঘটনার কারন হিসাবে দেখা গেছে, এ গাড়ীগুলো মানে না ট্রাফিক আইন, নেই কোনো হর্ন ব্রেক ও গিয়ার। শুধু সামনে চলতে পারে। এর চালকের নেই কোন ট্রেনিং বা অভিজ্ঞতা, নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট। অপর দিকে থানার সংযোগ সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠতে এরা কোনো হর্ন বা সিগনাল ব্যবহার করেনা। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা মারা যায় যাত্রী সাধারন সহ পথচারীরা। পুলিশ ধরলেও টাকার বিনিময়ে ও উপরি মহলের চাপে আবার ছেড়েও দেয় এদের। তবে অধিকাংশ প্রান হানির পেছনে ইঞ্জিনচালিত যান থাকলেও এ পর্যন্ত এর কোনো চালককেই আইনের আওতায় আনা হয়নি। নসিমন চালক ইনছার আলী জানান, এটা একটা লাভজনক পেশা। কাঠের বডি তৈরি করে একটি শ্যালো মেশিন বসায়ে কম খরচে তৈরি করা হয় এ নসিমন। এটা চালানোর জন্য লাগেনা কোন ট্রেনিং, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট।
এব্যাপারে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর রশিদ জানান, আমরা অনেকবার এই অবৈধযান বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু দলীয় নেতার কারণে এটা সম্ভব হয়নি। তবে ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে অবৈধযান তৈরীর কারখানা গুলোয় জরিমানাসহ সিলগালা করে বন্ধ করে দিলে নসিমন, করিমন, আলমসাধু আশংকা জনক হারে হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন। এসকল যান বন্ধ করার জন্য আন্তরিকতার কোন কমতি থাকবে না বলেও জানান তিনি। এদিকে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, এসব অবৈধযান তৈরীর কারখানা বন্ধসহ অনিতিবিলম্বে সড়কে এসব যানচলাচল বন্ধ না হলে দূর্ঘটনার পরিমান শুধু বেড়েই চলবে। আর তার জন্য কঠোর হতে হবে প্রশাসনকেই।




