কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মহকাবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে সাগরদাঁড়ির মধুমেলার ভেতর বসেছে আকর্ষণীয় কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা। কেশবপুর উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ দপ্তর প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করে থাকে। কিভাবে স্বল্প সময়ে অল্প খরচে অধিক ফসল উৎপাদন করে লাভবান হওয়া যায় তা কৃষি ও প্রযুক্তি মেলার মাধ্যমে দেখানো হয়ে থাকে। যা মধুভক্তদের মুগ্ধ করেছে।

জানা গেছে, সাগরদাঁড়ির মধু মেলার ভেতর প্রতিবছর নতুনত্ব নিয়ে বসে কৃষি প্রযুক্তি মেলা। এ মেলায় এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে এসেছেন। এরমধ্যে কেশবপুরের আটণ্ডা গ্রামের কৃষক সজিবুল আলমের চায়না শবজি লেটস, ভবদহ গ্রামের কৃষক মিহির লালের সাড়ে ৮ কেজি ওজনের ওলকপি, গোপালপুর গ্রামের সুব্রত হোড়ের আজব কলার ৪মোচা, কোমরপোল গ্রামের শাহজান আলীর ৩ হাত লম্বা ৬মাথার মানকচু, আলতাপোল তেইশ মাইল গ্রামের আক্তার হোসেনের ১০কেজি ওজনের পাহাড়ি বেল, তালা উপজেলার দাতপুর গ্রামের সেকেন্দার সানার অকাল তাল মেলায় আশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। তবে এ বারের মেলায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়েছে উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ ও ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ প্রযুক্তি। এছাড়া ফরমালিন দিয়ে বয়েমে সংরক্ষিত অক্টোপাস, হাঙ্গর, রূপচাঁদা, দাতনে, জিয়েল, মাগুরসহ বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্ত প্রায় মাছ মেলায় আগত শিশু কিশোরদের আকৃষ্ট করেছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্না জানান, মেলার ভেতর ৩ ভাগের দু’ ভাগ এলাকা জুড়ে রয়েছে কৃষি ও প্রযুক্তির স্টল। এ মেলায় আদর্শ বীজতলা, ফসলের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম), পরিবেশ দূষণমুক্ত রেখে ফসল উৎপাদন, একটি আদর্শ বাড়ির নমুনা দেখিয়ে চাষীদের উদ্ভুদ্ধ করার স্টলগুলো দেখতে দর্শকরা ভীড় জমাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, প্রতিবছর কৃষি ও প্রযুক্তি মেলায় নতুন কিছু সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। যা এবারও অব্যাহত আছে। মধু মেলায় যত লোক আসছে তারা সবাই কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা দেখছেন এবং উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ২৫ জানুয়ারী থেকে সাগরদাঁড়িতে কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে যা ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে।




