রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি : রামগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের ১৩ হাজার ২১০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করেছে পুলিশ, প্রিসাইডিং অফিসার ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন রাতে ও নির্বাচন চলাকালে ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী ছিনতাই, পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র ছিনতাই, ককটেল ফাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। এতে করে বর্তমানে উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এদিকে এসব মামলার অজুহাতে নিরীহ ব্যক্তিদের থানায় ধরে নিয়ে পুলিশ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

থানা সূত্রে জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন গত ৪ জানুয়ারি ও নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি নাশকতামূলক কর্মকান্ডে ল²ীপুর-১ আসনের রামগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ হাজার ২১০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে পৌরসভার রামগঞ্জ এম ইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই মো. সেলিম বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১০ জনসহ ৫০-৬০ জন, উপজেলার মাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জন, মাছিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৫ জনসহ ২৫০-৩০০ জন, মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে (হত্যা মামলা) অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জন, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসআই বশির বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৫ জনসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জন ও কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এজাহার নামীয় ৯ জনসহ ২৫০-৩০০ জন, রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শামছুল আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জন, দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন, বদরপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার মো. হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন,
জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শাহ মো. এমরান বাদী হয়ে ২০০-২৫০ জন, শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জন, নুনিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই (এবি) মো. ওয়াহিদুর রহমান বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৪ জনসহ ৩০০-৪০০ জন, পানিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই (এবি) সাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১০ জনসহ ২০০-৩০০ জন, নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই আবুল বাশার (ডিবি) এজাহার নামীয় ৭ জনসহ ২০০-২৫০ জন, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শেখ শওকত আলী বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১৮ জনসহ ৩০০-৩৫০ জন, নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার মো. ইমাম হোসেন বাদী হয়ে ১০০০-১৫০০ জন, নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ভবতোশ মজুমদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০০-২০০০ জন, রাঘবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার শাহ মো. আশ্রাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২০০০-৩০০০ জন, সোন্দরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার মো. নুর নবী চৌধুরী বাদী হয়ে ২০০-৩০০ জন, কাওয়ালী ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ২৫০-৩০০ জন, নিচহারা সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার শাহজাহান কামাল বাদী হয়ে ২০০-২৫০ জন,

চন্ডীপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই শামছুল আরেফিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জন, চাঙ্গিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই শেখ শওকত আলী বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১৩ জনসহ ২০০-২৫০ জন, শাকতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই শামছুল আরেফিন বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৭ জনসহ ১৫০-২০০ জন, পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোহাম্মদীয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১০ জনসহ ২০০-২৫০ জন, উত্তর হরিশ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই শেখ শওকত আলী বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১৪ জনসহ ৩০০-৩৫০ জন, কোমরতলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আবুল বাশার (ডিবি) বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১১ জনসহ ১৫০-২০০ জন, নাগমুদ মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এস আই গোলাম রসূল আহমদ বাদী হয়ে ২০০-২৫০ জনসহ ১৩ হাজার ২১০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে আসামি করে ২৮টি মামলা করেন।
এসব মামলার অজুহাতে জড়িতদের গ্রেফতারের নামে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ওইসব এলাকার নিরীহ লোকজনকে থানায় ধরে এনে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে, আবার কখনো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ভূ্ইঁয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, নির্বাচনী সামগ্রী ছিনতাই ও পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, করে ভোটের দিন ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালিয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় ২৮টি মামলা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতো মধ্যে মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাহার ভিপি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট একতরফা প্রহসনমূলক নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে আমাদের কোনো নেতাকর্মী নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত নয়। ১৪ দল মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যকার বিরোধের জের ধরে এসব নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটেছে।




