চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রেলবন্দ ১৮ দলের ডাকা টানা ৭ দিনের (শুক্রবার বাদে) অবরোধ স্থবির হয়ে পড়েছে। নেই কোন কোলাহল, কর্ম চাঞ্চল্য। ফলে অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে এই বন্দরকে ঘিরে যাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ হত। এছাড়া অবরোধের কারণে বাংলাদেশ রেল বিভাগ ও সরকারের রাজস্ব বিভাগ কোটি কোটি টাকার রাজস্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবরোধে কারণে বর্তমানে এই রেল বন্দরে ৩ টি মালবাহী ট্রেন ( ৩ র্যাক ৩১ মালবাহী ওয়াগন) মালামাল নিয়ে অবস্থান করছে। অবরোধে কোন ট্রাক/ কাগ্রো ট্রাক চলাচর না করায় মালবাহী ট্রেন থেকে মালামার আনলোড করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ দিন বন্দরে মারবাহী ট্রের মালামাল নিয়ে দাড়িঁয়ে থাকায় এলাকার চিহিৃত ২৫/৩০ জনের একটি দুর্বৃত্তদল বন্দরে হানা দিয়ে মালবাহী ট্রেনের ওয়াগন ভেঙ্গে মালামাল লুট করা এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে এসব দৃর্বৃত্তদের সাথে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এসব দৃর্বৃত্তরা বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী সাইফুল ইসলামের ডান পায়ের রগ কেটে দেয় এবং নুরুজ্জামান (৩০) ও রুবেলকে (৩২) ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাতœক ভাবে আহত করেছে।
এবিষয়ে দর্শনা রন্দর রেল কতৃপক্ষ ষ্টেশন মাষ্টার মীর মহাম্মদ লিয়াকত আলী জানান, ১৮ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচীর কারণে দর্শনা রেল বন্দর থেকে রেল বিভাগ প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া এই বন্দকে ঘিরে এলাকার শত শত নি¤œ আয়ের মানুষের যে কর্মসংস্থন সৃষ্টি হয়েছিল অবরোধের কারণে তাও বন্দ হয়ে গেছে। ফলে তারা অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
দর্শনা সহকারী কাষ্টমস্ সুপার বজলুর রশিদ জানান, ভারত থেকে আমদানীকরা রেলের ¯িøপারসহ বিভিন্ন মালামালা আমদানী বাবদ সরকার এই বন্দর থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। গত ৭ দিনের এই অবরোধের কারণে কোন রাজস্ব আয় হয়নি। তবে অবরোধের কারণে ভারতে রেলের ¯িøপার নিয়ে একটি মালবাহী ট্রেন অপেক্ষা করছে। অবরোধ কেটে গেলেই ওই ট্রেনটি দেশে ঢুকবে। যা থেকে এক কোটি টাকার রাজস্ব আয় হবে। এছাড়া এই বন্দর দিয়ে প্রতিনিয়ত রাজস্ব মুক্ত বা শুল্ক মুক্ত সুবিধায় গম, ভুট্টা, সোয়াবিন, খোইল ও পোল্টি খাবার আসে। অবরোধের কারণে সে সকল মালামালও আসা প্রায় বন্ধ হয়েছে।
দর্শনা কাষ্টমস্ ইমিগ্রেশন অফিসার এস, আই মাহাবুবুর রহমান জানান, অবরোধের কারণে ঢাকা-কোলকাতা যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেসের ভ্রমণকারী যাত্রী ও সড়ক পথে যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে এই খাত থেকেও সরকার লাখ লাখ টাকার বাজাস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। #




