ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজনীতিতে সম্প্রীতির উদাহরণ রাজশাহীর তানোর উপজেলা। দীর্ঘ দুইযুগ ধরে এউপজেলাতে রাজনৈতিক সহিংসতায় কোন প্রানহানি নেই। বর্তমান সময়ে দেশের এমন পেক্ষাপটে এউপজেলা শান্তির উপজেলা নামে পরিচিত। এখানে প্রতিনিয়ত হরতাল ও অবরোধসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি পালিত হলেও সহিংসতা, ভাংচুর কিংবা জালাও পোড়াও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত চলে সাভাবিক নিয়মে। দুরপালার যানবাহন বন্ধ থাকলেও স্থানীয় ভাবে নোসিমন, করিমন, ভুটভুটি, মিশুক ও অটোরিক্সা চলাচল করে প্রতিনিয়ত।

এনিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিমত, স্থানীয় রাজনীতিক নেতা কর্মীর সমর্থকেরা কম বেশি সবাই কৃষি ও ব্যবসাসহ নানা কাজে স¤প্রীক্ত বলে, হরতাল অবরোধে সহিংসতায় জড়ান না তারা। এছাড়া এখানকার বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপ্রিয় তাদের কর্মসূচি পালন করে থাকেন বলে তানোরে আজো রাজনৈতিক প্রানহানির ঘটনা ঘটেনি। এক কথায় বলতে গেলে শান্তির উপজেলা নামে পরিচিত তানোর উপজেলা।
শিবনদী বিলকুমারী দিয়ে গড়ে উঠেছে তানোর উপজেলা সদর। বর্তমানে ‘গ’ শ্রেণীর তানোর পৌরসভা ‘খ’ শ্রেণীর মুন্ডুমালা পৌরসভা রয়েছে এই উপজেলাতে। মূলত তানোর বলতে উপজেলা ও পৌরসদর বুঝায়। এখানে বড় কোন শিল্প কারখানা না থাকায় কৃষি ও সাধারণ ব্যবসার মাধ্যমে চলে জীবন-জীবিকা। বড় কারখানা বলতে একটি আলুর হিমাগার তিনটি পেট্রোল পাম্প আর ২০ থেকে ২৫টি ধানের চাতাল লক্ষ করা যায়। তানোরের মানুষ কৃষি খাতকে প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছে। কৃষিপূন্য বিক্রির জন্য তানোর সদরের গোলাপাড়া হাট, তালন্দ হাট, মুন্ডুমালা ও কালিগঞ্জ হাটে কৃষিপন্য বেচা বিক্রি করা হয়। তাই এখানে রাজনীতির সহিংসতা না থাকায় উপজেলাবাসীর সবাই খুশি।

এব্যাপারে তানোর আদর্শ বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও গোলাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পাপুল সরকার জানান, হরতাল অবরোধ হলে স্থানীয় নেতারা সকাল হতে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পযর্ন্ত পালন করে থাকেন। এসময় টুকু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে ব্যবসায়ীকরা ছাড় দিয়ে থাকেন। এজন্য এখানকার ব্যবসায়ীদের কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় না। তবে, সারা দেশে যে সহিংসতা চলছে তানোর উপজেলা এর ব্যতিক্রম এজন্য স্থানীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানান তারা।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক মিজানুর রহমান মিজান জানান, তারা প্রায় সবাই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যাতে কোন ব্যবসার ক্ষতি না হয় এজন্য তারা সবাই সতর্কতার সঙ্গে কর্মসুচী পালন করেন। যাতে তানোরে শান্তির পরিবেশ নষ্ট না হয়।
তানোর চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, হরতাল অবরোধে এখানে শান্তিপূর্ণ মিছিল মিটিং পালন করা হয়। এজন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহনশীলতা প্রশংসিত।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এমরান আলী মোলা জানান, তারা দল করেন দেশের স্বার্থে ও এলাকার জনগণের স্বার্থে। একারণে তারা কখনোই চান না তানোরে রাজনৈতিক সহিংসতা হোক। তাদের এমন সৌহার্দ্যেপূর্ণ আচরণের কারণে দীর্ঘ দুইযুগ ধরে অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংতা কিংবা কোন ধরণের খুন খারাপি নেই।
তানোর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী বলেন, মাননীয় সাংসদ ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টা ও তানোরকে দলীয় প্রভাব মুক্ত রাখা। এছাড়া তাদের সবার সহনশীলতা সহার্দ্যপূর্ণ চলাফেরায় এখানে শান্তির পরিবেশ বজায় আছে এবং ভবিষ্যতেই এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আসা প্রকাশ করেন।
তানোর জামায়াতের আমির শিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যরে কারণেই স্থানীয় ভাবে হরতাল অবরোধের প্রভাব তেমন পড়ে না। তারাও চেষ্টা করেন যাতে ব্যবসার ক্ষতি না হয়। যাতে করে আগামী দিনেও তানোর উপজেলায় শান্তি শৃংখলা বজাই থাকে।
তানোর জাতীয় পার্টির সভাপতি সামশুদ্দিন জানান, এখানে যারা রাজনীতি দলের সঙ্গে সমপৃক্ত তারা সবাই কোন না কোন সম্মানজনক পেশার সঙ্গে জড়িত। ্একারণে এখানে রাজনৈতিক সহিংতায় আজো কোন প্রানহানির ঘটনা ঘটেনি। এটা দেশের আরসব উপজেলার চেয়ে ভিন্নধর্মীর শান্তি প্রিয় উপজেলা হিসাবে পরিচিতি।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশিদ বলেন, তানোরে রাজনৈতিক সহিংসতা তেমন নেই। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো এটা ইতিবাচক দিক।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজেদা ইয়াসমীন জানান, তানোর অত্যন্ত শান্তি প্রিয় এলাকা। এখানে কোন রাজনৈতিক সহিংসতা নেই বললেই চলে। এটা প্রশংসনীয়। এজন্য তানোর বাসীকে ধন্যবাদ।




