এস.এম আজিজুল হক, পাবনা : ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি সবজি আড়ত। এখানে বর্তমানে প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকার শিম ক্রয়-বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরুতে উৎপাদন কম এবং বাজার চড়া থাকলেও বর্তমানে দাম কমে আসতে থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে আড়ত এলাকা জনারণ্যে পরিনত হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত প্রর্যন্ত চলে ক্রয়-বিক্রয়।
রবিবার সকালে সরেজমিন মুলাডুলি শিমের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, আড়তের পুরো জায়গায় ক্রয়কৃত শিম স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এ সকল স্তুপে থাকে শত শত মণ শিম। অন্যান্য এলাকার আড়ত সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে বসলেও মুলাডুলির শিমের আড়ত বসে সপ্তাহে সাত দিনই। হাটের আড়তদারসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন এই হাট হতে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক শিম বাজারজাত করা হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে এই সব শিম। বর্তমানে এই আড়তে প্রতি ট্রাক শিম চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকার শিম ক্রয়-বিক্রয় হয় এই মুলাডুলি আড়তে।
শিম চাষ করে একটি এলাকার মানুষের ভাগ্য বদল করে দিতে পারে, ঈশ্বরদী মুলাডুলি তার উৎকৃষ্ট উদাহরন। শুধুমাত্র শিম চাষ করে লাখপতি হয়েছেন এমন মানুষ শুধু মুলাডুলিতেই রয়েছে শত শত। এক হিসেবে জানা গেছে, শুধুমাত্র ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া, বড়াইগ্রাম ও লালপুরের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ এই শিম চাষের সাথে সরাসরি জড়িত।
মুলাডুলি আড়তের আড়তদার সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও সফল শিম চাষি আমিনুর রহমান বাবু ওরফে শিম বাবু শ্যামলবাংলাকে জানান, এই আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০/৬০ ট্রাক শিম বাজারজাত করা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায় এই মুলাডুলির শিম। শিম ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে মুলাডুলি সবজি আড়তে প্রতিদিন ১২‘শ শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আবহাওয়া জনিত কারণে শিমের ফলন বিপর্যয় না হলে শিম উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমান আরও বাড়তো বলে সংশ্লিষ্টরা জানান তিনি।




