ads

মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৩ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আজ মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১৯, ২০১৩ ৬:০৪ অপরাহ্ণ

19 November  Magura Picture18-11-2013আজ ১৯ নভেম্বর। মহম্মদপুর যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের সাথে মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। আর এ যুদ্ধে আহম্মদ হোসেন ও মহম্মদ হোসেন নামে আপন দুই সহদর সহ ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী সৈনিক মহম্মদ আলী পাকিস্থানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিরোচিত এই যুদ্ধ মহম্মদপুর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে পাকিস্থানী সেনারা স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় টিটিডিসি ভবনে (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) ক্যাম্প স্থাপন করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লুটপাট ও নিরীহ মানুষের উপর নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ওই ভবনেই তারা শক্তিশালী পর্যবেক্ষক চৌকি তৈরী করে। এই ক্যাম্প দখলের লক্ষ্যে আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয় মহম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা।  ১৮ নভেম্বর আনুমানিক রাত একটায় উপজেলা সদর থেকে দক্ষিন পশ্চিমে ৭ কিঃমিঃ দুরে ঝামা বাজারে সমবেত হয় তারা। আক্রমন পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোমল সিদ্দিকি (বীর উত্তম) ও তার বাহিনীর ৫০ জন মক্তিযোদ্ধা টিটিডিসি ভবনের দক্ষিন কোনে, আবুল খায়ের ও নুর মোস্তফার যৌথবাহিনীর ৫৫জন মুক্তিযোদ্ধা উত্তর দিকে, বীর প্রতিক গোলাম ইয়াকুবের নেতৃত্বে ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা দক্ষিন পশ্চিমে, এবং আহম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে ৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধা উত্তর পূর্বকোনে অবস্থান গ্রহন করে। সিদ্ধান্ত ছিল কমল সিদ্দিকির বাহিনী ও ইয়াকুব হোসেনের বাহিনী আক্রমন করবে এবং অপর বাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ঝামা বাজার থেকে মহম্মদপুর আসতে বেশী দেরি হয়ে যাওয়া এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় ফজরের আযানের মাত্র আধা ঘন্টা আগে পাকিস্থানী সেনাক্যাম্পে মুক্তিবাহিনী আক্রমন চালায়। দীর্ঘক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। হানাদার বাহিনীর ব্যাপক গোলাবর্ষনের মুখে এক সময় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেয়। এসময় একটি গুলি আহম্মদ হোসেনের মাথায় বিদ্ধ হয়। বড়ভাই মহম্মদ হোসেন ছোট ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনিও গুলি বিদ্ধ হন। দুই ভাই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে গড়াতে গড়াতে পুকুরের পানিতে পড়ে যান এবং সেখানেই তারা শহীদ হন। অল্প সময়ের ব্যাবধানে শহীদ হন ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গাালী সৈনীক মহম্মদ আলী। এই দুই শহীদ সহোদর আহম্মদ,মহম্মদ ও মহম্মদ আলীকে উপজেলার নাগড়িপাড়া গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
মহম্মদপুর বাসীর কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের অত্যন্ত বেদনা বিধুর ও নিষ্ঠুরতম এই ঘটনাটি এখনও রেখাপাত করে আছে। এই তিন শহীদের আতœত্যাগ তৎকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বহুগুনে বৃদ্ধি করেছিল। যা চুড়ান্ত বিজয়ের জন্য সয়ায়ক ছিল। শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। পেয়েছি লাল-সবুজের একটি পতাকা। তাদের স্মৃতি চারণে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ মহম্মদপুর শহরে শহীদ আহম্মদ-মহম্মদ মার্কেট এবং উপজেলা সদর থেকে নাগড়িপাড়া অভিমূখি সড়কটি আহম্মদ-মহম্মদ নামকরন করে তাদের স্মৃতিকে ধরে রেখেছে। মহম্মদপুর উপজেলা মক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী রেজা খোকন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে মহম্মদপুরের যুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা কিন্তু কবিতার কোন পংতিমালায় এবং ইতিহাসের কোন পৃষ্টায় এই ঘটনা স্থান পাইনি। রচিত হয়নি তিন শহীদের নামে কোন উলে­খযোগ্য কোন স্মৃতিময় কিছু। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলকে  বারবার তাগিদ দেওয়া সত্বেও তারা  কোন কিছু করার কোন  উদ্যোগই গ্রহণ করছেন না। এ উপলক্ষে মরহুম দুই সহদরের নীজ বাড়িতে মিলাদ মাহফিল ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়েছে।  মোঃ কামরুল হাসান, মহম্মদপুর (মাগুরা)

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!