ads

রবিবার , ১০ নভেম্বর ২০১৩ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শীত মৌসুমে পাটালি গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১০, ২০১৩ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

khejurওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : অগ্রহায়ণে শীতের আগমনে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গ্রামে গ্রামে গাছিরা মৌসুম চুক্তিতে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকালে খেজুরের রস জালিয়ে পাটালি বানানোর ধুম পড়েছে। উপজেলার বাজারগুলোতে বছরের প্রথম খেজুরের পাটালি বিক্রি হতে দেখা যায়। দামও বেশ ভাল, প্রতি কেজি পাটালি ৬০-৭০ টাকা।
উপজেলায় আগের মত সারি সারি খেজুর গাছ নেই। যে গাছগুলো রয়েছে, তা গাছিরা কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকেই কাটা শুরু করে। বিভিন্ন কারণে এলাকার গাছিরা এখন আর এ পেশাতে নেই বললেই চলে। উৎপাদন ও বিক্রয়ের প্রতিযোগিতায় বহিরাগত গাছিদের সাথে টিকতে না পেরে স্থানীয় গাছিরা অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছে। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হয় খেজুর গাছকে ঘিরে। শীত এগিয়ে আসছে। অযতœ ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীত এলেই। খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটারি। যার সাদ ও ঘ্রান আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে এর পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা।
উপজেলা কৃষি অফিস ও বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। ২ হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেল লাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ। একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০/৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরন করতে পারে। এরকম ৪ হাজার ব্যক্তি রয়েছে। মৌসুমীভিত্তিক ৪ হাজার পরিবার খেজুর গাছের উপর নির্ভশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১শ ২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০/২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোন ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোন যতœ ছাড়াই বড় গয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিস্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটারি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে মাদুর তৈরি ও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়। পরিকল্পিত ভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালীর চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।
khejurdপাবনা থেকে আসা গাছি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় কোন খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী ও বাউসা এলাকায় এসে ৩/৪ মাসের জন্য খেজুর গাছ ৮০ থেকে ১শ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট বাজারে বিক্রি করি। এবার ১শ ২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো আমরা দু’জনে রস সংগ্রহ করি। সংসারে ৬ সদস্যের পরিবার। এর উপর ৩/৪ মাস ভালভাবে চলবে। অন্য সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। উপজেলার মনিগ্রাম দক্ষিন পাড়া গ্রামের গৃহকর্তী জুলেখা বেওয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার দুই কন্যা ও ছয় ছেলে। ছোট ছেলে ছাড়া সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। শীত এলেই জামাই-কন্য, নাতী-নাতনী, ছেলেদের শশুর-শাশুড়ী ও আত্মীয়দের নিয়ে ২/১ বার উৎসবের আয়োজন করি। এ প্রথাটা আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর আমল থেকে চলে আসছে। তাই আমিও করি। নিজের প্রায় ২৫/৩০টার মতো খেজুর গাছ রয়েছে। এ গাছ থেকে নিজের বাড়িতে খাওয়া হয়। সংসারে কিছু কাজে লাগে এবং আত্মীয়তা করা হয়। বানিয়া পাড় গ্রামের গাছি মো. আজাহার আলী বলেন, আর ক‘দিন বাদেই পুরোপুরিভাবে সংগ্রহ করা হবে খেজুর রস। আগের মতো গ্রামে গ্রামে শীতের সন্ধ্যায় সাজো রস খাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গ্রামীণ সন্ধ্যা কালিন জীবন বড়ই আনন্দের হয়ে উঠবে। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার বলেন, শুধু সরকারিভাবেই না, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানো জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যা কৃষকদের মাঝে রস ও গুড়ের চাহিদা মিটাবে। এছাড়া আখের পাতা ও গমের কোড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি যেন, গুড় তৈরিতে সহজ হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এ মৌসুমে রাস্তার ধারে ২০ কি.মি. খেজুর গাছ রোপন করা হয়েছে। কৃষকরাও নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ লাগায়, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!