মো: খালেদ পারভেজ বখশ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিন সন্তানসহ এক গৃহবধূ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্ট করেছে। এ সময় রেলওয়ে ষ্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তিন সন্তানসহ গৃহবধূকে রক্ষা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্তানসহ গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ রেলওয়ে ষ্টেশনে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের দুবাই প্রবাসী জমির মিয়ার স্ত্রী গুলশান বেগম (৩২), মেয়ে ডালিয়া ইসলাম (১২), ছেলে জাহেদ আহমদ (১০) ও জুবেদ আহমদ (৮)সহ ভানুগাছ রেলওয়ে ষ্টেশনে সিলেটগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এসময় ষ্টেশনে উপস্থিত ময়না মিয়া, জমশেদ মিয়া ও কাজল বেগম দ্রুত তিন সন্তানসহ গৃহবধূকে ঝাপটে ধরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে সন্তান সহ গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর জরুরী বিভাগে অবস্থানরত গৃহবধূ গুলশান বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বামীর অবর্তমানে দীর্ঘ দিন ধরে শ্বশুর বাড়িতে এক ননদসহ অন্যান্য লোকজনের সাথে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তার ননদ রেজিয়া বেগম তাকে মারধর করেন। ননদসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার স্বামীকে আরও একটি বিয়ে করাতে চান। এতে তিনি জোর আপত্তি জানালে এসব ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তিন সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে গৃহবধূর ননদ রেজিয়া বেগম বলেন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। সে তাদের আপন মামাতো বোন। তার স্বভাব চরিত্র ভাল নয়। সে উল্টো শ্বশুর বাড়ির লোকজনের উপর থানায় মামলাও করেছে। সে প্রায়ই আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এ নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা আছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আত্মহত্যার চেষ্টার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে তাদের পারিবারিক কিছুটা বিরোধ আছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হবে।




