মোঃ আমির হোসেন,দেবিদ্বার(কুমিলা) : দেবিদ্বারে অভিনব কৌশলে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন যাবত নারীর ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক নারী কর্মীসহ ৩ সদস্যকে আটক করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
প্রতারক চক্রের সদস্য কথিত সাংবাদিক, প্রাইভেট হাসপাতালের নার্স, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রীত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য, নারী ব্যবসায়ি, মাদক ব্যবসায়ী, হোন্ডা চোরা চালানী চক্রের সদস্য, বখাটে-মাস্তান রয়েছে। প্রতারনার শিকার চান্দিনা সদরের ‘চান্দিনা রহমত উল্যাহ চৌধূরী মার্কেট’র মালিক বামন চৌধূরীর অভিযোগে পুলিশ রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের অন্যতম সদস্য দেবিদ্বার (উত্তরপাড়া) গ্রামের মৃতঃ মিন্নত আলীর পুত্র কথিত সাংবাদিক মোঃ ফারুক হোসেন জনি (৩৫) একই গ্রামের মোঃ বাচ্চুমিয়ার ছেলে মোঃ খলিলুর রহমান (৩০) এবং মোহনপুর গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান’র মেয়ে দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টারের কর্মচারী নুসরাত জাহান এ্যানি (২০) সহ ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তিতে অপরাপর সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা সদরের বাসা ভাড়া করে নারী ব্যবসা ও প্রেমের প্রলোভনে খদ্দের ও সরল মানুষদের জিম্মী করে এবং বিভিন্ন বাসায় ঢুকে গৃহবধূ, স্কুল কলেজে পড়–য়া ছাত্রী এমন কি চাকরিজীবী অনেকের আপত্তিকর ছবি তুলে জিম্মী করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে আসছিল। সম্মান রক্ষায় ভোক্তভোগীরা তা প্রকাশ করেনি। তা ছাড়া অন্তত ২/৩জন সাংবাদিক আছে যারা বিভিন্ন পরিচয়ে মাদক চোরা চালানী, থানার দালালী, মানুষকে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো তুলে ধরার অভিযোগে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অপকর্ম করে গেলেও রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, জনি ফারুক সাংবাদিক পরিচয়ের নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকলেও পুলিশের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের অভাবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জনি ফারুকের বিরুদ্ধে ‘অনন্ত বহুমূখী সমবায় সমিতি’র নামে চড়া সূদে অসংখ্য মানুষকে সর্বশান্ত করার অভিযোগ আছে। সূদে আসলে মূল টাকা দিলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগ ব্যক্তিদের নানাভাবে লাঞ্ছিত, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাটই নয়, তার বিরুদ্ধে হোন্ডা চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ি চক্রের জোগসাজস ও মানুষের জায়গা জমি দখলের অসংখ্য অভিযোগ আছে। ভোক্ত ভোগিরা ভয়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার সাহস পায়নি। আমরা যখন নিশ্চিত হলাম সে ভুয়া সাংবাদিক তখন একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করি। সাংবাদিক হিসাবে আমাকে ওরা আমাকে ডেকে নিয়েছে, তাই ছবি তুলেছি, ননজুডিশিয়াল অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার সত্যতা স্বীকার করে বলে ওরা নিজেরাই ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়েছে।

নুসরাত জাহান এ্যানি জানায়, আমি দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টারে চাকরি করি। খলিল মিয়ার সাথে একই বাসায় ভাড়া থাকি। ফারুকের স্ত্রীর সাথে মামলার বাদী বামন চৌধূরীর সম্পর্ক ছিল, বামন চৌধূরী তাকে নানা অশোভন কথা বলে বিরক্ত করত। ওই মহিলাই আমাকে তার মোবাইল নম্বর দিয়ে কথা বলতে বলে। লোকটি এত বয়স্ক আগে জানতামনা, দেখার পরেই লোকটি আমার পছন্দ হয়নি। ওই লোকই মোবাইল ফোনে আমাকে বিরক্ত করত। খলিল ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনায় বামন চৌধূরীকে বাসায় ডেকে আনি। তার পর যা করার ওরাই করেছে।
মুরাদনগর সার্কেল এএসপি মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক জনি ফারুকের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোর্শেদ বলেন, সাংবাদিক জনি ফারুক সাংবাদিকতার পরিচয়ে নানা অসামাজিক ও নীতিবহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরু বিষয়টি তদন্ত চলছে। অভিযোগের সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।




