রাজনীতির আকাশের ঘনকালো মেঘ যেন কিছুতেই কাটছে না। কখনও হালকা আলোকরশ্মির দেখা মেললেও পরক্ষণেই তা মিলিয়ে যাচ্ছে মেঘের ঘনঘটায়। আর এ নিয়ে দেশবাসী চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগলেও সেই উত্তাপ যেন স্পর্শ করছে না দায়িত্বশীলদের।
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে নানা উদ্যোগ কথাবার্তার ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিঠি ও ফোনালাপ সম্ভাবনার ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করলেও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় তা আবার ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করে। মিলিয়ে যায় সমঝোতার প্রশ্নে সংলাপের সম্ভাবনা। এমনই অবস্থায় ১৮ দলীয় জোট নেত্রী, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার ঢাকার সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি দু’দিনের (শুক্র ও শনিবার) আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। আলটিমেটাম অনুযায়ী দুদিনের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা না হলে রবিবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩ দিনের টানা ৬০ ঘন্টা হরতাল কর্মসূচি রাখার ঘোষণাও দেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুর থেকেই যখন ছড়িয়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ফোনে কথা বলবেন, ঠিক তখন থেকেই সচেতন মহল ধারণা করছিলেন এবার আলোচনার বন্ধ দুয়ার সত্যিকার অর্থেই খুলে যাবে। কিন্তু সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, সংকট নিরসনে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ এবং সোমবার গণভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানানোর পরপরই যখন দলীয় প্রতিক্রিয়ায় সংলাপের দিন-ক্ষণ, স্থান না জানিয়ে ৬০ ঘন্টার হরতাল পরবর্তী সময়ের কথা জানানো হয়, ঠিক তখন থেকেই রাজনীতির আকাশের ঘনকালো মেঘটা ফের স্ব-মহিমায় ফিরে আসে।
বিরোধী দলের ওই ৬০ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচিতে এবার কেবল ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষই উদ্বিগ্ন নয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), বার্ষিক ও উচ্চ শিক্ষাঙ্গণের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ৪ কোটি শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সমঝোতার ক্ষেত্রে এতোদিন যাই হোক না কেন, এখন সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে- এমন কথা নির্বোধ ব্যক্তিটিও বিশ্বাস করতে চাইবে না। প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহবানকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই সমর্থন করেছে। কেবল মতভেদ রয়েছে ওই সরকারের প্রধান কে থাকবেন? এ নিয়ে বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রীর দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই- তারপরও তা পেছানো কেন? এখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে কোনটি বড়? হরতাল না সমঝোতার সংলাপ? তিনি কোনটা চান? জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর-ক্ষতিসাধন তথা সংঘাত না সমঝোতা? এখন তাকেই স্পষ্ট করতে হবে তার অবস্থান। তা না হলে চলমান কৃতকর্মেই জাতি বুঝে নেবে তার অবস্থান।
সুতরাং রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে বিপরীতমুখী অবস্থান আর টানাটানিতে সময় গড়িয়েছে অনেক। জাতিকে অন্ধকারে না ডুবিয়ে এখনই রক্ষা করার শেষ সময়। এজন্য সদিচ্ছা আর আন্তরিকতার সমীকরণে পিছিয়ে থাকা বিরোধী দলকে অগ্রসর হতে হবে অনেকটাই। সেইসাথে সরকারের আন্তরিকতা আরও বি¯তৃতি পাক। তারা আরও একধাপ এগিয়ে বিরোধী দলকে বুকে টেনে নিক। জাতি মুক্তি পাক এক ক্রান্তিকাল থেকে। রাজনীতির আকাশ থেকে ঘনকালো মেঘ কেটে গিয়ে ফুটে উঠুক আলোর ঝলকানি- এই প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক : সম্পাদক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম, ই-মেইল : press.adhar@gmail.com




