রেজাউল করিম বকুল : বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বাঘহাতা গ্রামের মৌসুমী নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী। ২০ মার্চ রবিবার ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও পল্লী সমাজের নারীদের উদ্যোগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রিপন মিয়া আর এলাকাবাসীর সহায়তায় এ বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়। এরপর থেকে ফের স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে মৌসুমী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের বাঘহাতা গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে ভায়াডাঙ্গা বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মৌসুমী (১২)। একই উপজেলা কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের চিথলিয়াপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্যে তার সাথে বিয়ের দিন ধার্য হয়। ২০ মার্চ রবিবার মোশারফ হোসেনের বাড়িতে বসে বিয়ের আসর। এ সময় সংবাদ পেয়ে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, পল্লী সমাজের নারী নেত্রীদের উদ্যোগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রিপন মিয়া ও এলাকাবাসীর সহায়তায় এ বিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে স্কুল শিক্ষার্থী মৌসুমীকে তার মা রৌশনারা বেগমের হাতে তুলে দেন তারা। এ সময় মৌসুমী এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি পড়া লেখা করতে চাই। এ বিয়েতে আমার কোনো সম্মতি ছিলনা। মা জোর করে বিয়ে দেয়ার জন্যে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তার মা রৌশনারা বেগম জানান, আগে বুঝতে পারিনী। এখণ শোনি ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসেছিল। শুধু আর্থিক দৈন্যতার কারণেই সে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন সে বুঝতে পেরেছে। তাই আর তার মেয়েকে বিয়ে দিবেনা। এখন পড়ালেখা করতে দিবে। এ ব্যাপারে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে স্থানীয় মিডিয়ার কর্মী ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন নিজে এসে তাদেরকে বোঝানোর পর এ বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এ সময় এলাকার অনেকে জানান, তাদের এলাকায় বাল্য বিয়ের আয়োজন হলে তারা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের জানাবে। যাতে আর কোনো বাল্য বিয়ে না হয়। এ ঘটনার পর থেকে মৌসুমী নিয়মিত স্কুলে যায়। সে পড়া লেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।




