স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে স্কুলছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে (৮) অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৪ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। ২৯ নভেম্বর রবিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই বশির আহমেদ বাদল শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। ওই মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হচ্ছে সদর উপজেলার বয়ড়াপরাণপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে অপহৃত শিশুর খালু আবদুল লতিফ (২২), একই গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (২০), নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র ইমরান হাসান(২২) এবং শেরপুর সদরের চরশেরপুরের আব্দুল হাকিমের ছেলে আসলাম বাবু (২১)। ওই মামলার অভিযোগ থেকে আসলামের মা জাহেদা ওরফে আবেদা বেগমকে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ৪ জনই শেরপুর জেলা কারাগারে আটক রয়েছে।
ওই নিহত শিশুর ডিএনএ, ভিসেরা রিপোর্টসহ ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেতে প্রায় সাড়ে তিন মাস লেগে যায়। ঘটনার পর ৪ মাসের মাথায় তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে পুলিশ ওই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশীট দিয়েছে।
গত ২ আগস্ট দুপুরে শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে তার আপন খালু আব্দুল লতিফ ও তার অপর তিন সহযোগী অপহরণ করে। পরে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট অপহৃত শিশু রাহাতের বাবা শহিদুল ইসলাম খোকন শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই অভিযুক্ত ৪ আসামি এবং আসামি আসলামের মা আবেদা বেগমকে গ্রেফতার করে। আসামি আসলামের স্বীকারোক্তি মোতাবেক এবং তার দেখিয়ে দেয়া নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের কাছে মাজারের টিলা থেকে গত ৮ আগস্ট দুপুরে শিশু রাহাতের দেহাবশেষ, পড়নের সার্ট ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। শিশু রাহাত শহরের গৃর্দানারায়নপুর এলাকার কাঠের আসবাপত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও গৃহবধু রিনা বেগম দম্পতির ছেলে। অভিযুক্ত ৪ আসামিই আদালতে অপহরণ পরিকল্পনা ও হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।




