মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: অতিচেনা অনেক বন্যপ্রাণী প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের হিংস্রতা আর প্রকৃতির বৈরীতায়ই মূলত অতিচেনা এসব বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে বনবিড়াল, বেজী, শিয়াল ও খেক শিয়ালসহ পরিচিত নানান প্রাণী। এরা সাধারণত রাতে বন-জঙ্গলে ঘুরে আহার শিকার করে এবং দিনের বেলা মাটির গর্তে লুকিয়ে থাকে। নিকট অতীতেও এসব প্রাণীর হাকডাকে সরব থাকতো পল্লীগ্রামের রাতের পরিবেশ। কিন্তু এখন এই প্রাণীদের হাকডাক এখন আর তেমন শোনাই যায়না। সে সময়গুলোতে এসব প্রাণীর হাকডাক ও চিৎকারে মনে হতো ওরা যেন মিছিল করছে। এমনও নজির আছে এ প্রাণীদের হাকডাক ও চিৎকারে চোর-ডাকাতরাও বুকের বল হারিয়ে চুরি না করে পালিয়ে গেছে। কিন্তুু সেসব এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে রয়েছে। প্রকৃতি থেকে আশংকাজনকহারে বনজঙ্গল কমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যপ্রাণীগুলোও হারিয়ে যেতে লেগেছে। প্রাণীগুলোর মধ্যে হাতেগোনা দু’একটির হঠাৎ হাকডাক শোনা ও দেখা গেলেও হিংস্র শিকারীদের কারণে অবশিষ্ট এ প্রাণীগুলোও এখন বিলীন হওয়ার পথে। নওগাঁর মহাদেবপুরসহ আশপাশ এলাকায় এখন হরহামেশাই শিকারীর দেখা পাওয়া যায়। তাদের হাতে থাকে তীর, ধনুক, বল্লম, লাঠি ও কোদালসহ দেশীয় নানান অস্ত্র। প্রাণী শিকারের কাজে তারা দেশীয় অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে। লক্ষ্য করা যায়, শিকারীরা খুঁজে খুঁজে বনবিড়াল, বেজী, শিয়াল ও খেকশিয়ালসহ নানান প্রাণী মেরে লাঠিতে ঝুলিয়ে নিয়ে যায়। শিকারীদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানায়, খাওয়ার জন্য এসব প্রাণী তারা জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে শিকার করলেও প্রাণীগুলোর চামড়া তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দেয়। শিকারী সমরাজ জানায়, বছরের কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ এ কয়মাসের পুরোটাই তারা এ সমস্ত প্রাণী শিকার করে থাকে। শিকারের জন্য শুধু মহাদেবপুর অথবা আশপাশ উপজেলা নয় বরং তারা বিভিন্ন জেলার বনজঙ্গলে হানা দেয়। শিকারী দলের সদস্যরা জানায়, শুধু তারাই নয় এরকম অনেক দল আছে যারা এসব প্রাণী শিকারের জন্য এসময়গুলোতে বিভিন্ন জেলার বনজঙ্গল এবং মাঠে মাঠে তীর, ধনুক, বল্লম, কোদাল ও লাঠি হাতে চলাচল করে। এভাবে একেক দল প্রতিদিন ১৫/২০টি করে প্রাণী শিকার করে থাকে। এভাবে বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ এ বিষয়টি তাদের কেউই জানেনা বলে জানায়।




