ads

বৃহস্পতিবার , ২২ মে ২০১৪ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বাড়ী ঘর নদীতে, অভাবে রাতে অন্যর বাড়ীতে : শত বাধা পেরিয়ে রায়হানুলের জিপিএ ৫ প্রাপ্তি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ২২, ২০১৪ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

Photo1953রাজিবপুর(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ফল  প্রকাশের খবর পেয়েও  স্কুলে যেতে পারেনি রায়হানুল ইসলাম। তার কাছে ছিলো না খেয়া ভাড়ার  দশ টাকা । দ্বীপচরে বাড়ী ।

Shamol Bangla Ads

গতকাল শনিবার দুপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় চারদিকে চলছিল হৈচৈ। বন্ধুরা স্কুল চত্বরে উল্লাসে আত্মহারা আর সেই সময়ে প্রখর রোদের মধ্যে নদীর তীরে বসে কান্নছে রায়হানুল ইসলাম।
আর দশজন শিক্ষার্থীর মতো শুধু লেখাপড়ায় মেতে থাকার সুযোগ হয়নি রায়হানুলের। পাশাপাশি তাকে লড়াই করতে হয়েছে অভাব আর নদীভাঙনের সঙ্গে। রাতে ঘুমানোর ঘর নেই। সুস্থির হয়ে বসে লেখাপড়ার সুযোগও হয়নি। নিরন্তর জীবনযুদ্ধে লেখাপড়াটা যেন একটা অংশ মাত্র। তবে এই অদম্য মেধাবী কিশোর বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলেছে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে  জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।
সাহার আলী-রাহেলা বেগম দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে রায়হানুল মেজ। বড় ভাই খোকন আলিম পরীক্ষার্থী। আর ছোট ভাই রাকিবুল পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। এসএসসিতে সন্তানের এই সাফল্য হাসি ফুটিয়েছে দরিদ্র মা-বাবার মুখে। একই সঙ্গে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাটাও পেয়ে বসেছে তাঁদের।

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন চড়াইহাটি চরে রায়হানুলদের বাড়ি। বাবা সাহার আলী ঢাকায় রিকশা চালান। মা রাহেলা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। জমাজমি বলতে কিছুই নেই। বারবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে আজ তারা ভূমিহীন। অন্যের বাড়িতে একটা ঘর তুলে কোনোক্রমে মাথা গুঁজে আছে পরিবারটি।
ছেলের এমন ভালো ফলের খবর শুনে ঢাকা থেকে বাড়ি ছুটে এসেছেন সাহার আলী। গত রবিবার নিজ বাড়িতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পোলায় ভালো রেজাল্ট করছে। এতে খুশি নাগবই। কিন্তুক ভালো ফল কইরা তো আমারে বিপদে ফালাইছে। চরের মানুষ কয়, তোর ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে। তাকে পড়াবি কিভাবে? কলেজে পড়াইতে মেলা টাকা নাগে। এই চিন্তায় ভালা নাগছে না।’
রাহেলা বেগম বলেন, ‘পোলা আমার অনেক কষ্ট কইরা পড়ছে। নদীভাঙনের সময় থাকার জায়গা ছিল না। মাইনসের বাইত্তে থাইকা পড়ছে। ভালামন্দ খাবার দিবার পারি নাই।’
রায়হানুল জানায়, টাকার অভাবে তার প্রাইভেট পড়া হয়নি। ঘরের অভাবে অন্যের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। কেরোসিনের অভাবে অনেক রাতে তার পড়া হয়নি। পরীক্ষা শেষ করেই ঢাকা ও টাঙ্গাইলে শ্রম বিক্রির জন্য গিয়েছিল সে। রায়হানুলের ইচ্ছা বড় হয়ে প্রকৌশলী হওয়ার।
অর্থাভাবে ভালো কলেজে পড়ার সুযোগ না হলে এলাকার কলেজ থেকেই এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। তার বিশ্বাস, এইচএসসিতেও জিপিএ ৫ অর্জন করবে সে। রায়হানুল ইসলাম এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় স্থানীয় চরনেওয়াজী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এর আগে এই শিক্ষায়তন থেকে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতেও সে জিপিএ ৫ পেয়ে বৃত্তি লাভ করেছিল।

Shamol Bangla Ads

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম বলেন, ‘রায়হানুল জন্মগতভাবেই মেধাবী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান বলে স্কুলের পক্ষ থেকে ওকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। এখন বাইরে থেকে একটু সহযোগিতা পেলে ছেলেটা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত।’

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!