ads

মঙ্গলবার , ২০ মে ২০১৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

জামালপুরে হাইব্রিড জাতের সবজি আবাদে ঝুঁকছেন চাষিরা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ২০, ২০১৪ ২:৫৯ অপরাহ্ণ

Jamalpur-1দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর : জামালপুরের নান্দিনা ও চরাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের সবজি আবাদে চাষিরা ক্রমান্বয় ঝুঁকে পড়ছেন। উন্নত সড়ক যোগাযোগ, স্বল্প উত্পাদন খরচ, চাহিদা বেশি, অধিক ফলন, সন্তোষজনক মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা এই জাতের সবজি চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তৃর্ণ বালুর চরে বিশেষ করে লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচর, রানাগাছা, শরিফপুর ও নরুন্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে, পটল, বরবটি, মরিচ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া,মূলা, লাউ শাক, ডাঙ্গা (ডাটা), লাল শাক, শসা, ঢেঁরস ইত্যাদি আবাদ হয়েছে। লক্ষ্মীরচর এলাকার সবজি চাষি কৃষক গোলাম মোস্তফার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে আমরা সামান্য জমিতে নিজের ও স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য এসব সবজি আবাদ করতাম। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে এসব সবজির চাহিদা বেশি থাকায় সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও লাভের চিন্তা মাথায় রেখে গত প্রায় ৩বছর ধরে চাষ করছি। তিনি আরও জানান, আমি এবার দেড় বিঘা জমিতে চিচিঙ্গা ও এক বিঘা জমিতে ঝিঙ্গে আবাদ করেছি। প্রতি ৪ শতাংশ জমিতে ১০ গ্রাম ওজনের হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের প্রয়োজন। দশ গ্রাম ওজনের চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গে বীজের খুচরা মূল্য ১১০-১২০ টাকা। জাঙ্গলা, কামলাসহ ৪ শতাংশ জমি আবাদ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয় ৮শ’ থেকে ১হাজার টাকা। এভাবে এক বিঘা (৩০ শতাংশ) খরচ প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে ক্ষেত থেকে চিচিঙ্গা তুলে বিক্রি করা যায়। আবহাওয়া অনুকুলে ও ফলন ভালো হলে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া যায়। এলাকার চাষি আব্দুল মোতালেব ও আক্তার হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ঝিঙ্গে আবাদ করতে চিচিঙ্গার মত একই টাকা খরচ হয়। তবে বাজারে ঝিঙ্গের দাম বেশি পাওয়া যায় বলে কৃষকরা জানান। চলতি মে মাসের প্রথম দিকে প্রতিমণ ঝিঙ্গে পাইকারী বিক্রি হয়েছিল ১২শ’টাকা মণ। এখন দাম কমে ৫থেকে ৬শ’ টাকায় নেমে এসেছে। এক বিঘা ঝিঙ্গে আবাদ করে খরচ বাদে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। গত প্রায় এক মাস আগে থেকে রাজধানীসহ দেশের নানা স্থান থেকে সবজি পাইকাররা জামালপুরে আসছে। ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার, ফেরিঘাট এলাকায় সবজির পাইকারী হাট বসানো হয়েছে। এই হাটে বর্তমানে চিচিঙ্গা পাইকারীর মূল্য প্রতি মণ ৩শ’থেকে ৪শ’টাকা, শসা ২ থেকে আড়াই শ’টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪শ থেকে ১৬শ’ টাকা, মিষ্ঠি লাউ প্রতিশ’ দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, চাল কুমড়া প্রতি শ’ এক হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের সবজির ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবজি আবাদে সকল ধরণের সার,কীটনাশকের কোন সংকট ছিলনা।

মাদারগঞ্জের খাল খননে কৃষকের মুখে হাসি

Shamol Bangla Ads

Jamalpu-2জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দুধিয়াগাছা জোড়খালীঘাট খাল পুনঃখননে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা পাবে এবং ১৩টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন জরিপ ও সমীক্ষার পর জাইকা ও দুধিয়াগাছা জোড়খালীঘাট পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’র অংশগ্রহণমূলক অর্থায়নে দুধিয়াগাছা জোড়খালীঘাট উপ-প্রকল্পের আওতায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের দুধিয়াগাছায় দুইটি স্লুইচ গেইট, সাড়ে ৫ কি.মি. বাঁধ ও ৫.৮ কি.মি খাল পুনঃখননের কার্যক্রম গৃহীত হয়। ইতোমধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও স্লুইচ গেইট কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। জামালপুর ও মাদারগঞ্জ এলজিইডি এসব কাজের তদারকি করছে। ১৯৬৫ সালে প্রথম খাল খননের পর সরকারিভাবে চারবার খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এ উপ-প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির প্রায় ২০ কোটি টাকার ফসল অগ্রিম ও বিলম্বিত বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। পানি ব্যবস্থাপনার সুবাদে প্রকল্পভুক্ত জমিতে বছরে দুই ফসলের পরিবর্তে চার ফসল চাষাবাদ সম্ভব হবে। অন্যদিকে পরোক্ষভাবে ১৩টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন। জনস্বার্থে গৃহীত এ কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও অবৈধদখলদার ব্যক্তি। এ ব্যাপারে গত ২৬ এপ্রিল মাদারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
এদিকে দুধিয়াগাছা গ্রামের ফিরোজ আহাম্মেদ ও সামছুল হক জানান, খাল পুনঃখনন, বাঁধ ও স্লুইচ গেইট নির্মাণের মাধ্যমে সকলেই নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কতিপয় ব্যক্তি নিজের স্বার্থের জন্য এসব কাজের বিরোধীতা করে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শুস্ক মওসুমে খালে ধানের চারা রোপন করা হয়। খাল পুনঃখননের কারণে তা আর সম্ভব হবে না। এরপরও খাল পুনঃখনন, বাঁধ ও স্লুইচ গেইট নির্মাণে সুবিধাই বেশী হবে। কাজ কেমন হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, কাজ খুব ভালো হয়েছে। কোন অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়নি। অন্যদিকে খালের পার দিয়ে রাস্তা হওয়ায় যাতায়াতে সুবিধা হবে। তারা আরও জানান, অনেকেই খালে ধান চাষ করেছিলেন। পুনঃখাল খননের জন্য তাদের ধান কাটতে হয়েছে। কিন্তু তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট সমিতির কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে দুধিয়াগাছা জোড়খালীঘাট পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম ইরফান জানান, এ উপ-প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কৃষক উপকৃত হবেন। এছাড়াও খালে মৎস্য চাষ করে গ্রামবাসী আর্থিকভাবে সচ্ছল হবেন। তিনি আরও জানান, দুধিয়াগাছা জোড়খালীঘাট পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’র প্রায় সাড়ে চারশত সদস্যের দীর্ঘদিনের সপ্ন এ উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!