রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : রামগঞ্জ থানার ভেতর দালাল ও টাউট-বাটপারদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে থানার দ্বারপ্রান্তে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। পুলিশের এ নিরপেক্ষ ভূমিকা ও দালাল নিরসনে কঠোর কর্মকান্ড জোরদারের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতে বুঝা যায়, পুলিশের অভ্যন্তরে এখনো কিছু সৎ, ন্যায়পরায়ন, নিষ্ঠাবান, দক্ষ ও মহৎ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে। তার দৃষ্টান্ত দেখাতে যাচ্ছেন থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ও কৌশলী অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। ফলে রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশকে নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল তার কিছুটা পরিবর্তন হয়ে পুলিশের কর্মকান্ডের উপর ধীরে ধীরে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসছে।

জানা গেছে, বিগত দিনে রামগঞ্জ থানাটি দালালের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। সেই থানা গত ৩/৪ মাসে দালালের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায় জড়িত ফরিদয়াদিরা এখন নিঃসংকোচে থানায় যেতে সক্ষম হচ্ছে। বিগত সময়ে থানায় দায়িত্ব পালন কালে পুলিশ কর্মকর্তারা থানাকে দালাল, টাউট, বাটপার ও প্রতারকদের আড্ডা খানার আখড়ায় পরিণত করে ছিল। বলতে গেলে সে সময় রামগঞ্জ থানার কর্মকান্ড ছিল মাছ বাজারের মতো। গ্রামের সাধারণ বিচার প্রার্থী ফরিয়াদী লোকজন নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের জন্য থানায় গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সবর্স্ব হারানোর ঘটনাও ঘটেছে। দালালদের কারণে বিচার প্রার্থী লোকজন সরাসরি থানায় অফিসারদের ধারে-কাছে যেতে দেয়নি দালালচক্র। মামলা বা জিডি এন্ট্রি করে দেয়ার নামে ফরিয়াদী লোকজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হতো। থানার ওসি, দারগাকে টাকা দিতে হবে তা না হলে এ মামলা এন্ট্রি করা হবে না বলে দালালচক্র ভূক্তভোগীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিতো হাজার হাজার টাকা। কিন্তু তাদের কাজের কাজ কিছুই হতো না। তাছাড়া সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দালাল, ও টাউট-বাটপারদের ভীড়ে থানায় সাধারণ বিচার প্রার্থী লোকজন সরাসরি অফিসারদের দ্বারে যেতে পারে নাই। মামলা বা জিডি এন্ট্রি করার নামে ফরিয়াদী লোকজনের কাছ থেকে দালালেরা ওপেন-সিক্রেট উৎকোচ আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিচার প্রার্থী সাধারণ ফরিয়াদী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়াও কোন ভদ্র কিংবা সম্মানি ব্যক্তিবর্গ থানায় প্রবেশ করার কোন পরিবেশ ছিল না। সব সময় দালালদেরকে পুলিশ অফিসারের সামনে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যেত। এমনকি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা দালালদের মোটর সাইকেলে চড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতো। গ্রামের সাধারণ লোকজন পুলিশের সাথে দাললদেরকেও পুলিশ মনে করতো। বর্তমান ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন রামগঞ্জ থানার দায়িত্ব নেয়ার পর এ অবস্থা দেখে রীতিমত হতবাক হয়ে পড়েন। এ অবস্থার উত্তোরণের জন্য সাধারণ জনগণকে দালাল ও টাউট-বাটপারদের প্রতারণা থেকে মুক্ত করতে তিনি এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। দেখা গেছে, সাধারণ ফরিয়াদী লোকজন এখন সরাসরি নিজেদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে থানার ওসি ও অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে যাবার সুযোগ পাচ্ছেন। অতীতে যেখানে ফরিয়াদী লোকজন থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের নিকট থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পেতো না। কিন্তু এখন সাধারণ লোকজন নির্দ্ধিধায় অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্ত হচ্ছেন।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, বর্তমানে থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির পথে। কিছুটা হলেও সাধারণ জনগন আইনী সহায়তা পাচ্ছে। অতীতের তুলনায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কমে আসছে। পুলিশ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে তারা জনগনের আসলেই প্রতিপক্ষ নয়, তারা জনগণের বন্ধু। এছাড়া মাঝে মধ্যে অনাকাঙ্খিত ২/১টি ঘটনা ঘটলেও তাত্ক্ষণিক পুলিশের নিরলস ভূমিকায় তা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কোন বিচার প্রার্থী ফরিয়াদী লোকজন সমস্যা বা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি থানায় আসবে। কোন তদ্বীরকারী বা দালালকে সাথে নিয়ে আসলে উভয়কে গ্রেফতার করা হবে। জনগণ সঠিক সেবা ও নিরাপত্তা পাক সেটাই পুলিশের মূল উদ্দেশ্য। সাধারণ জনগণের জন্য সব সময় থানার দরজা খোলা এবং নির্ভয়ে থানায় আসতে পারবে। তিনি বলেন, যতদিন রামগঞ্জ থানায় দায়িত্বে থাকবেন ততদিন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোন নিরীহ ব্যক্তিকে জড়িয়ে মামলা রেকর্ড করা হবে না। সাধারণ লোকজনকে আর কোন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।




