মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তালগাছ। এক সময় মনে করা হতো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য মানেই গ্রাম-বাংলা। কিন্তু তালগাছের সেই ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে গ্রাম-বাংলা। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সরকারী ও বেসরকারীভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের বাহক নানা উপকারী এই তালগাছ রক্ষায় তেমন উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই এটি বিলীন হতে চলেছে।

এক সময় নওগাঁর মহাদেবপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের আনাচে-কানাচে এবং বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পাশে সাড়ি সাড়ি তালগাছ শোভা পেতে দেখা গেছে। কিন্তু সেই দৃশ্য আর চোখে পড়েনা। এখন হঠাৎ কোন গ্রামের ঝোড় ও জঙ্গলের পাশে দু-একটি তালগাছ চোখে পড়ে। যে তালগাছ এখন চোখে পড়ে সেসব আবার কারো লাগানো নয়, এমনিতেই এসব তালগাছ ঝোড় জঙ্গলে বেড়ে উঠেছে। কেউ তাল খেয়ে আঁটি ফেলে গেছে সেই আঁটি থেকেই মূলত হয়ে ওঠেছে এসব তালগাছ। অতীতে অপরিচিত মানুষদের বাড়ীর নিশানা ঠিক করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তালগাছের সাহায্য নেয়া হত। ওমুকের বাড়ী কোথায়, জমি কোথায়, পুকুর কোথায়, মাঠ কোথায়, মসজিদ কোথায়, মাদ্রাসা কোথায়, স্কুল কোথায়- এসব ক্ষেত্রে বলা হত উঁচু ওই তালগাছটার পাশে। এমনকি সরকারী-বেসরকারী কাজে নানান দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রেও তালগাছের সহায়তা নেয়া হত। তালের পিঠা, তালের আঁটি ও তালের রস সব মানুষের নিকট খুব মজাদার খাবার। বিশেষ করে তালের পিঠা দিয়েই অতীতে জামাই বাড়ী, মেয়ের বাড়ী, বেয়াই বাড়ী, শ্বশুর বাড়ীসহ নানান আত্মীয়তার বন্ধন রচিত হত। অতীত সময়গুলোতে তালপিঠা ছাড়া গ্রাম-গঞ্জে আত্মীয়তা কল্পনাই করা যেতনা। এ ছাড়াও তালগাছের পাতায় তৈরী করা হত নানা ডিজাইনের হাতপাখা। কিন্তু গ্রাম-বাংলা থেকে ক্রমেই তালগাছ হারিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নেই সেই তালপিঠার আত্ময়ীতা, নেই জামাই আদর আর কন্যা বরণ। তালগাছের এসব ঐতিহ্য ছাড়াও এই গাছের গুল দিয়ে কাঁচা ও পাকা ঘরের তালার (ছাদ) তীর করা হয়ে থাকে। ঘরের তালায় (ছাদ) বাঁশের তীরের চেয়ে তালগাছের তীর অনেক মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, তালগাছের এসব উপকার ও ঐতিহ্য ছাড়াও গ্রাম-বাংলার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের বহুমুখী কাজে লাগে তালগাছ। কিন্তু অযতœ, অবহেলা ও গুরুত্বের অভাবে তালগাছ এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এখনও অবশিষ্ট থাকা তালগাছগুলো এক শ্রেণীর কাঠ ব্যবসায়ী কেটে উজাড় করে চলেছে। যে হারে কাটা হচ্ছে সেই হারে অথবা তার কম পরিমাণ তালগাছও রোপন করা হচ্ছেনা বলে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান।




