আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) : ঠাকুরগাওয়ের রানীশংকৈল কুলিক নদী ঐতিহাসিক রাজবাড়ির সৌন্দর্যকে আকর্ষণীয় করে আঁকাবাঁকা পথে এক সময় খরস্রোতে বয়ে চলতো। বড় বড় নৌকা লঞ্চ ষ্টীমার দিয়ে মানুষ পানিপথে এপার ওপার বাংলার সুসম্পর্ক, ব্যবসা বানিজ্য হতো। এই নদী পথ দিয়ে ভারতের নাগর নদী হয়ে যাওয়া আসা করতো দুই বাংলার মানুষ।

পৌরশহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীটি প্রায় পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। রাজবাড়ি ঘাট সংলগ্নে অভয়াশ্রম তৈরী হলেও সফলতা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নদী গর্ভ পরিণত হয়েছে ধান ক্ষেতে। যে নদীর পানি দিয়ে তীরবর্তী এলাকার জমিতে চাষাবাদ হতো এখন সে নদীর বুকে লাগানো ধান ক্ষেতে পানি সেচ দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে নন্দুয়ার ইউনিয়নের জওগাও নন্দুয়ার গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা ললতই নদীতে এক সময় দেশী বোয়াল, গজাড়, মাগুর, সিং, কই মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এ নদীর মাছ মেরে এলাকার শত শত দরিদ্র পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। শুকিয়ে প্রায় নি®প্রাণ হয়ে পড়ে। এলাকার ক্ষমতাধর, ভ‚মিদস্যুদের দখলে বোরো চাষ করা হচ্ছে নদীর বুক চিরে। এ নদীতে ভন্ডগ্রাম, গাজিরহাট, জওগাও, নন্দুয়ারসহ আরো বেশ কিছু গ্রামের ক্ষমতাধররা ললতই নদীতে চাষাবাদ করে আসছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নদীটি খনন করার কাজ করা হলেও পরবর্তীতে অসাধুৃ সুবিধাবাদিরা পাড় কেটে নদী ভরাট করে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিরনই নদীটিও ভারতের নাগর নদী থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। খরস্রোতা নদীর রূপ লাবণ্য হারিয়ে গোচারণে পরিণত হয়েছে। মাটি কেটে ভরাট করে চলছে নির্বিচারে চাষাবাদ। তিরনই নদী ছাড়াও জেলার যে ক’টি নদী আছে তার সবগুলো নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। মৃত প্রায় নদীগুলো। পানি শূন্যতার কারনে নদীর মাছ বিলুপ্তি হয়ে জেলার হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ভারতীয় সীমান্তে নদীগুলোর উৎস ও প্রবেশ মুখে সুইসগেট, বাঁধ, ফিডার ক্যানেল, রেগুলেটর, বাধ ড্যামসহ প্রায় আড়াই’শ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বেড়িবাঁধ নির্মান করে পানির প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া এসব নদীতে পানি দেখতে পাওয়া খুবই দুস্কর হয়ে পড়েছে।
নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে নদীর নাব্যতা। ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য জেলে পরিবারদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।
এব্যাপারে ঠাকুরগাও-২ সাংসদ দবিরুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সালে খননের কাজ কিছুটা করা হয়েছিল। বাকি কাজগুলো জরুরী করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি অধ্যাঃ ইয়াসিন আলী বলেন, খনন প্রক্রিয়া চালু করে কুলিক নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনা জরুরী। এব্যাপারে আমি মহান সংসদে আলোচনা করবো।




