চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : অবশেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির পুরানো কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসকে আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ হাসান খাঁন বাবুকে ১ নং যুগ্ম আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন এই আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন, জেলা যুবদলের আহবায়ক এ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা ও সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক মালিক মজু। সোমবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া এই কমিটির অনুমোদন দেন। সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে এই সংবাদ চুয়াডাঙ্গায় পৌছালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বইতে থাকে। এই আনন্দে অনেক নেতাকর্মী একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৯ সালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হককে সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্ট কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ স¤পাদক শামসুজ্জামান দুদুকে সাধারণ স¤পাদক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি গঠন করা হয়। মূলত তখন থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক কার্যক্রম চলতে থাকে পৃথক চার ভাগে। মোজাম্মেল হক ও শামসুজ্জামান বাদে বাকী তিনটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিতো অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর আলম। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিসহ সকল কর্মসূচিই আলাদা আলাদা ভাবে পালন করা হতো।
এরই মাঝে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া তুণমূল থেকে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহন করে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে চুয়াডাঙ্গার বিভক্ত চারটি গ্রুপের নেতাকর্মিদের ঢাকায় তলব করে খালেদা জিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সকালে এবং রাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা নেতৃবৃন্দর বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু ২১ এপ্রিল সকাল ১১ টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে বৈঠক শুরুর আগেই চুয়াডাঙ্গা বিএনপির বিবদমান শামসুজ্জামান দুদু ও অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের সমর্থকরা হট্টগোল ও চেয়ার ছোড়াছুঁড়িতে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসসহ আহত হয় উভয় পক্ষের ২৫ জন নেতাকর্মি। এ অবস্থাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ও দলীয় চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চুয়াডাঙ্গার চারটি ভাগের নেতাদের বৈঠক স্থগিত করে দলটির হাই কমান্ড। এরই মাঝে সোমবার দুপুরে অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসকে আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ হাসান খাঁন বাবুকে ১ নং যুগ্ম আহবায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটির ঘোষনা দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসাবে মনোনীত হওয়ার পর অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে সকলকে এক সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির একটি শক্তিশালী কমিটি উপহার দেওয়া। আর এই কমিটি হবে তৃণমূলের নেতাকর্মিদের মতামতের ভিত্তিতে।
এছাড়া, এক নং যুগ্ন আহবায়ক মাহমুদ হাসান খাঁন বাবু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিরাজ মান একাধিক গ্রুপকে এককরে একসাধে পথচলা। এছাড়া সম্পুন্ন গণতান্ত্রিক উপায়ে ইউনিয়ন থেকে জেলায় প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালি কমিটি গঠন করা। যে কমিটি এই অবৈধ সরকারকে উৎক্ষাত করতে পিছু পা হবে না।




