শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ আর নেই(ইন্নালিলাহে……….রাজেউন)। । ১৯ এপ্রিল শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তার মৃত্যুতে দেশিয় সংস্কৃতি অঙ্গণসহ অসংখ্য ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্ম নেয়া বশির আহমেদ মাত্র ১৫ বছর বয়সেই উচাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। তবে তিনি জনপ্রিয়তা পান চলচ্চিত্রের গান গেয়ে। জীবদ্দশায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন বশির আহমেদ। তার স্ত্রী মীনা বশিরও সঙ্গীতশিল্পী। তাদের দুই সন্তান হুমায়রা বশির এবং ছেলে রাজা বশিরেরও গানের অ্যালবাম রয়েছে। দিলির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ কলকাতায় ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সঙ্গীত শেখার পর মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ’র কাছে তালিম নেন তিনি। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
ষাটের দশকে চিত্রনির্মাতা মুস্তাফিজের ‘সাগর’ ছবির জন্য গান লেখার মধ্য দিয়ে রুপালি জগতে পা দিয়েছিলেন বশির আহমেদ, সেই সঙ্গে শুরু হয় সুর করা এবং গান গাওয়াও। ১৯৬৪ সালে ‘কারোয়ান’ চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শবনম-রহমান অভিনীত বাংলা চলচ্চিত্র ‘দর্শন’ ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর এর গানগুলোর জন্য শ্রোতামনে স্থান করে নেন বশির আহমেদ।
‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো, জ্বালো আগুন আরও জ্বালো, ঢালো আরও ব্যথা ঢালো……, এ রকম অসংখ্য গানের জনপ্রিয় শিল্পী তিনি। বশির আহমেদের আরও জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘অনেক সাধের ময়না আমার’ ‘সবাই আমায় প্রেমিক বলে’, ‘ডেকো না আমারে তুমি’, ‘যারে যাবি যদি যা’, ‘ওগো প্রিয়তমা’, ‘খুঁজে খুঁজে জনম গেল’, ‘ঘুম শুধু ছিল দুটি নয়নে’, ‘কাঁকন কার বাজে রুমঝুম’, ‘আমাকে যদি গো তুমি’ ইত্যাদি।




