কুমিলা প্রতিনিধি : কুমিলার চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলায় ভোটযুদ্ধ। ইতিমধ্যে নির্বাচনী কেন্দ্রে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্যদিয়ে আপাতত শেষ হচ্ছে কুমিলা জেলার উপজেলা নির্বাচন। ইতিপূর্বে দ্বিতীয় ধাপ থেকে চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত কুমিলার নয়টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ ঘিরে খুন, সহিংসতা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সংঘটিত হওয়ায় আগামীকালের ভোটগ্রহণ নিয়ে চান্দিনা ও মুরাদনগরে প্রার্থী ও ভোটাররা আতঙ্কে রয়েছেন। দুই উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা করেছেন। তবে চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশির ভাগ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এলডিপির প্রার্থীর পক্ষে যাদের জোর বেশি তারাই কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সোমবার কুমিলার ওই দুটি উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে ১৬ উপজেলার ১১টির নির্বাচন সম্পন্ন হবে। ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুমিলার মুরাদনগর ও চান্দিনা উপজেলার তিন চতুর্থাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দু’টি উপজেলার মোট ২শ’২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১শ ৭৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ হসাবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬জন নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলে পুলিশ সুপার অফিস সূত্রে জানা গেছে।
কুমিলার চান্দিনা উপজেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং এলডিপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান (কাপ-পিরিচ) ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তপন বকসী (আনারস) প্রতিদ্ব›িদ্বতায় থাকলেও শুক্রবার নাটকীয়ভাবে নাজমুল আহসান রিপন প্রতিদ্ব›িদ্বতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে তপন বকসীকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া (দোয়াত-কলম) দলের একক প্রার্থী দাবী করে উপজেলা বিএনপির তৃণমূলদের নিয়ে মাঠে রয়েছেন। আর কেন্দ্রীয় বিএনপির সমর্থন দাবী করে এলডিপির অঙ্গসংগঠন গণতান্ত্রিক যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আবু তাহের (টেলিফোন) ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এ উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দোয়াত-কলম ও টেলিফোন প্রতীকের কর্মী সর্মর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষেও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখলের আশঙ্কা করছেন ভোটার এবং অন্য দলের প্রার্থীরা। চান্দিনা উপজেলায় ভাইসচেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন আওয়ামী লীগের মোসলেহ উদ্দিন (চশমা), এলডিপির শরীফুজ্জামান (তালা) ও জামায়াতের মাওলানা মোবারক হোসেন (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নাজমা আক্তার (প্রজাপতি), বিএনপির আনোয়ারা জামান (কলস) ও এলডিপির নার্গিস আক্তার (হাঁস)।
কুমিলার মুরাদনগর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় সমর্থনের বাইরে একাধিক প্রার্থী থাকায় এ উপজেলার ১৩০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে শতাধিক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখল, নিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৮জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তারমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন- সৈয়দ আবদুল কাইয়ুম খসরু (হেলিকপ্টার) দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে আকম গিয়াস উদ্দিন (দোয়াত কলম)। ভাইসচেয়ারম্যান পদে রফিকুল ইসলাম সরকার (টিয়া) বিদ্রোহী প্রার্থী ভিপি জাকির হোসেন (তালা)। মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লুনা (হাঁস)। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন- বাঙ্গরা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন অঞ্জন (ঘোড়া)। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন গোলাম কিবরিয়া সরকার (কাঁপ পিরিচ)। স¤প্রতি গোলাম কিবরিয়া সরকারকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আরো বিদ্রোহীর মধ্যে রয়েছে মনিরুল হক জজ মিয়া (টুপি), মিনাজুল হক মিনহাজ (টেলিফোন)। ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল (মাইক) মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা বেগম (প্রজাপতি)। বিএনপির বিদ্রোহী ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল আলম (উড়োজাহাজ), খলিলুর রহমান (চশমা), মোহাম্মদ আলম (জাহাজ) ও আব্দুল মতিন (বই), বিদ্রোহী মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান প্রার্থী জুলেখা খাতুন (কলস)। গত নির্বাচনের পথধরে চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদটির বিজয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি দলের বিদ্রোহীদের সমুচিত জবাব দিয়ে চেয়ারম্যানসহ ভাইসচেয়ারম্যান পদগুলো নিজেদের ঘরে আনতে মরিয়া হয়ে লড়বে পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ পর্বে।
৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুমিলার মুরাদনগর ও চান্দিনা উপজেলার তিন চতুর্থাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দু’টি উপজেলার মোট ২শ’২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১শ ৭৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে মুরাদনগরের মধ্যে ১শ’২১টি এবং চান্দিনার ৭২টির মধ্যে ৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এসআই, এ এস আই, এটি এস আই, নায়েক, কনস্টেবল ৬ জন (সশস্ত্র) পিসি ১ জন, এপিসি ১ জন, ৬ জন পুরুষ আনসার, ৪জন মহিলা আনসার, দফাদার ও গ্রাম পুলিশসহ ১৬জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মুরাদনগর উপজেলার ৮টি এবং চান্দিনা উপজেলার ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং প্রতিটি ইউনিয়নে ২টি করে মোবাইল পার্টি মোতায়েন থাকবে। বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে সেনা, র্যাব, বিজিপি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমদ জানান- নির্বাচনের দিন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য মুরাদনগর উপজেলার ৮টি এবং চান্দিনা উপজেলার ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং প্রতিটি ইউনিয়নে ২টি করে মোবাইল পার্টি মোতায়েন থাকবে। উপজেলা স্ট্রাইকিং ফোর্সে পুলিশ পরিদর্শক ১জন, এস আই/আর্মড এস আই ১জন/ এ এস আই, এন সিও/কনস্টেবল/এপি বিএন/ব্যাটেলিয়ন আনসার ৮জন সহ নিরাপত্তা বাহিনীর ১০জন সদস্য থাকবে।




