তাপস কুমার, আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাই নদীর বালু মহাল থেকে সরকারী নীতিমালাকে উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যেখানে নদীর উপর রেল ব্রিজ, বেইলী ব্রিজ ও নদীর পার্শ্ববর্তী রাস্তার মত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এই স্থাপনার অতি নিকট থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে এ দু’টি জনগুরুত্বপূর্ন ব্রিজসহ রাস্তা।

এ দিকে আত্রাই ও গুড়নদীর বালু মহাল ইজারাদার দাবি করেছেন ইজারাকৃত বালু মহাল থেকে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে। ফলে ইজারাদারকে লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে ইজারাদার অভিযোগ করেন।
জানা যায়, আত্রাই নদীর বারটি মৌজায় ৮৩.৯১ ও গুড়নদীর ৪৯.১৭ একর নদী বালু মহাল হিসেবে ইজারা বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে। এই ইজারাকৃত বালু মহালের ক্যালেন্ডারের বাইরেও ইজারাদার বালু উত্তোলন করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে অনেকের। আত্রাই সদর আত্রাই নদীর উপর রেল ব্রিজ ও বেইলী ব্রিজের পশ্চিম ধার থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ স্থান থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে দু’টি ব্রিজ ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে পড়বে।
এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি স্থান থেকে বালু মহালের স্কেচ ম্যাপের বাইর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বালু মহালের ইজারাদার নিরেন চন্দ্র মহন্ত অভিযোগ করে বলেন, তার ইজারাকৃত বালু মহাল দিঘা মৌজা থেকে একজন ঠিকাদার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় তার ৮/১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ইজারাদার চলতি বছরে ৫ লাক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বালু মহাল এক বছরের জন্য লিজ নেন। ইজারাকৃত বালু মহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পেরে একাধিক দফতরে লিখিত অভিযোগ করেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে ইজারাদার জানান।
এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেমন্ত হেনরী কুবি বলেন, ইজারাকৃত বালু মহালের বাইরে থেকে কোথাও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে কোন অভিযোগ তাঁর নিকট আসেনি। তবে দিঘা মৌজায় যে ঠিকাদার বালু উত্তোলন করছে সে স্থানে একটি রাবার ড্যাম কাম ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। সরকারী কাজের জন্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ঠিকাদার ব্রিজ নির্মাণে ঐ স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছেন। তবে এ ব্যাপারে সরকারী নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিডির একজন প্রকৌশলী জানান, বিধি সম্মতভাবে ঐ ঠিকাদার ঐ স্থান থেকে বালু উত্তোলন করতে পারেন না।




