তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে স্কুল ও সরকারি ভিপি সম্পত্তির সোয়া লক্ষ টাকার গাছ কর্তনের দায়ে এক প্রভাবশালী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদেরকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোপনে বিষয়টি তদন্ত শেষে এনির্দেশ দেন তিনি।

অভিযোগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরণজাই ইউপি’র নবনবী গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তৈবুর রহমান পিন্টু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নবনবী মৌজার সরকারি ভিপি সম্পত্তি দুটি শত বছরের বট গাছ ও একটি আম গাছ কর্তন করে ৯৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া তিনি নবনবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হবার সুবাদে উপজেলা শিক্ষা কমিটির কোন অনুমোদন ছাড়াই স্কুল মাঠের তিনটি নিম গাছ, দুটি আম ও একটি কড়াই গাছ কর্তন করে প্রায় ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এসব গাছ বিক্রির টাকা স্কুল উন্নয়নের নামে তিনি নিজের পকেটে ভরেছেন। তবে, এনিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল খাঁন কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।
এদিকে, পরিষদের চেয়ারম্যান এসব ঘটনা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুগো, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তাকে সরজমিনে তদন্ত করতে নিদের্শ দেন। নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তকারী অফিসার মতিউর রহমান ও ইকবাল কাশেম প্রতিবেদন দাখিল করার পর বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ করার নির্দেশ দেন তিনি। ইউএনও’র এমন নির্দেশে তানোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা ইকবাল কাশেম বাদি হয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে তানোর থানায় আওয়ামীলীগ নেতা পিন্টুর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ দায়ের করেন।
অপরদিকে, স্কুলের গাছ কাটার অভিযোগে ইউএন’র নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান সরকারিবিধি অমান্য করে কেন স্কুলের গাছ কর্তন করা হয়েছে এর কারণ জানতে চেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল খাঁন ও সভাপতি পিন্টুকে কারণ দর্শানো নোটিশ করেছেন তিনি।
এনিয়ে নবনবী গ্রামের বাসিন্দা জামিনুল, রবিউল ও মোতালেবসহ আরো অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগের সুরে জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগ নেতা পিন্টু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের গ্রামের পাঁচটি খাসপুকুর অবৈধ ভাবে দখল করে মাছচাষ করে আসছেন। এসব পুকুরের পানি চাষাবাদের জন্য তিনি কাউকে ব্যবহার করতে দেন না। এছাড়া তিনি ঈদগাঁ, মাদ্রাসা ও স্কুলের নামে এমপি’র বিশেষ বরাদ্দের টিআর ও কাবিখার নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ টাকা লুটপাট করেছেন। এখন তিনি সরকারি গাছ ও স্কুলের গাছ বিক্রি করা শুরু করেছেন। তিনি সরকারি দল করেন বলে এত অনিয়ম করেও কোন ব্যবস্থা হয় না তার। এমন দাপুটে দূর্নীতিবাজ নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এনিয়ে সরণজাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁন জানান, নবনবী গ্রামের সরকারি গাছ ও খাসপুকুর যেন পিন্টুর পৈত্রিক সম্পত্তি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি সরকারি গাছ, পুকুর ও খাস জমি নিজের মনে করে ব্যবহার করছেন। এই মানুষটি বেপরোয়া হয়ে সরকারি এসব সম্পত্তি আর যেন ভোগদখল করতে না পারে এজন্য তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এনিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা তৈমুর রহমান পিন্টু জানান, সরকারিবিধি মোতাবেক সবকিছু করা হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি তার দল চালানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের অর্থ ব্যয় করে থাকেন বলে কিছু অনিয়ম তাকে করতেই হয়। আগামী উপজেলা নির্বাচনে তার ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীকে জয়লাভ করাতে ব্যাপক পরিমান অর্থ খরচ হবে। একারণে তিনি রাস্তার ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে একটি পুরোনো বট গাছ বিক্রি করেছেন তিনি।
এব্যাপারে তানোর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা ইকবাল কাশেম জানান, ইউএন’র নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এনিয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশিদ জানান, এমন ঘটনা নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজেদা ইয়াসমীন জানান, সরকারি সম্পদ কোন অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক দখল করে তসরুফ করার দায়ে পিন্টু নামের একব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে লিখিত ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




